পাথরের আঘাতে ভেঙে গেছে ট্রেনের বগির কাচ
পাথরের আঘাতে ভেঙে গেছে ট্রেনের বগির কাচ

রাজশাহীগামী সিল্ক সিটি ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, আহত ৬

ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী ঈদযাত্রার আন্তনগর সিল্ক সিটি এক্সপ্রেস ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক শিশুসহ ছয় যাত্রী আহত হয়েছেন। আজ বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে পাবনায় বড়াল ব্রিজ স্টেশনে ঢোকার আগে এ ঘটনা ঘটে।

আহত যাত্রীরা সবাই ট্রেনের ‘ঘ’ বগিতে ছিলেন। সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে ট্রেনটি বড়াল ব্রিজ স্টেশনে ঢোকার আগে একটি জানালায় বিকট শব্দ হয়। জানালার কাচ ভেঙে ট্রেনের কামরার ভেতরে ছিটকে পড়ে। কাচের কুচিতে এক শিশুসহ ছয়জন আহত হন। তাঁরা অভিযোগ করেন, ওই ঘটনার পর তাঁরা ট্রেনের কর্মীদের কাছ থেকে কোনো সহায়তা পাননি।

আহত ব্যক্তিরা হচ্ছেন চিকিৎসক হাবিবুল আউয়াল (২৬), ফার্মাসিস্ট শফিকুল ইসলাম (৪৫), ওষুধ কোম্পানির কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান (৩০), কাউসার আলী (২৫) জিয়াউর রহমান (৪৫) ও তিন বছরের শিশু রায়ান। তাঁরা ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরছিলেন।

হাবিবুল আউয়াল ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা। তাঁর বাড়ি রাজশাহী নগরের শালবাগান এলাকায়। রাত নয়টার দিকে চিকিৎসক হাবিবুল আউয়ালের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয়। ট্রেনটি তখন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী স্টেশনের কাছাকাছি ছিল। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আহত ব্যক্তিদের অনেকেরই বেশ ব্লিডিং (রক্তপাত) হয়েছে। নানাভাবে তাঁরা রক্তপাত বন্ধ করার চেষ্টা করেছেন। যাঁরা ছোটখাটো আহত হয়েছেন, তাঁদের রক্তের দাগ শুকিয়ে গিয়েছে। কিন্তু ক্ষত হয়ে আছে।

হাবিবুল আউয়াল অভিযোগ করেন, ওই ঘটনার পরে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের তাঁরা কোনো সহযোগিতা পাননি। রেলের কল সেন্টার ১৩১ নম্বরে বারবার ফোন দিয়েছেন; কেউ ফোন রিসিভ করেননি। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরেও ফোন করেছিলেন। সেখান থেকে একজন ১৩১ নম্বরে ফোন করার পরামর্শ দেন। ট্রেনের টিকিটে দেওয়া হটলাইন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোন কেটে দেওয়া হয়।

হাবিবুল আউয়াল আরও বলেন, তাঁরা ট্রেনের ক্যাটারিং সার্ভিসের এক কর্মীকে রেলওয়ে পুলিশ ও গার্ডকে (পরিচালক) বিষয়টি জানানোর অনুরোধ করেন। প্রায় ২০ মিনিট পর রেলওয়ে পুলিশের একজন সদস্য আসেন। তিনি আরেকজনের ওপর দায়িত্ব দিয়ে চলে যান।

সিল্ক সিটি ট্রেনে গার্ডের দায়িত্বে ছিলেন মশিউর রহমান। রাত সোয়া ১০টায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়। তিনি বলেন, ট্রেন ইতিমধ্যেই রাজশাহী স্টেশনে এসে পৌঁছেছে। এই ট্রেনের পাথর নিক্ষেপের ঘটনা তাঁকে কেউ অবহিত করেননি।