ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ বেড়েছে। আজ সোমবার
ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ বেড়েছে। আজ সোমবার

ঈদযাত্রায় গাজীপুরের মহাসড়কে বাড়ছে গাড়ির চাপ

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঘরমুখী মানুষের ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে। আজ সোমবার সকাল থেকেই ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ বেড়েছে। তবে কোথাও বড় ধরনের যানজটের সৃষ্টি হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা এবং যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচলের কারণে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।

জানা গেছে, শিল্পাঞ্চল গাজীপুরের প্রায় ৫ হাজার ৬০০ কারখানার মধ্যে আজ ৪২ শতাংশ কারখানায় ঈদের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে দুই হাজারের বেশি তৈরি পোশাক কারখানা আছে। বাকি ৪৫ শতাংশ কারখানায় আগামীকাল মঙ্গলবার ছুটি দেওয়া হবে। অন্য কারখানাগুলো আগেই পর্যায়ক্রমে ছুটি ঘোষণা করেছে।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, আজ উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কারখানা ছুটি হওয়ায় বিকেল থেকে শ্রমিকেরা বাড়ি ফেরা শুরু করবেন। তখন হয়তো চাপ আরও বাড়তে পারে।

হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল থেকে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা, টঙ্গী, ভোগড়া ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা এলাকায় যানবাহনের চাপ বাড়তে দেখা যায়। এসব এলাকায় বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস ও ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় কিছু সময় ধীরগতিতে যান চলাচল করেছে। তবে কোথাও দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়নি।

মহাসড়কে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ বেড়েছে। আজ সোমবার

চান্দনা চৌরাস্তা এলাকা থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়া পোশাকশ্রমিক সুমি আক্তার বলেন, ‘প্রতিবার ঈদের আগে রাস্তায় অনেক কষ্ট হয়। আজকে রাস্তায় তেমন যানজট দেখছি না। বাসে উঠতে কিছুটা ভোগান্তি হলেও রাস্তায় বড় কোনো যানজট নেই। আশা করছি, স্বস্তিতে বাড়ি পৌঁছাতে পারব।’ টঙ্গী থেকে ময়মনসিংহগামী যাত্রী মো. রুবেল মিয়া বলেন, ‘ভাড়া কিছুটা বেশি নিচ্ছে পরিবহনগুলো। তারপরও সময়মতো বাস পাওয়া যাচ্ছে। বিকেলের পর চাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে হচ্ছে।’

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চলাচলকারী একটি দূরপাল্লার বাসের চালক মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, সকাল থেকে যাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে। মহাসড়কে গাড়ির চাপও বেশি। বাসস্ট্যান্ডগুলোয় ভিড় থাকলেও অন্য এলাকায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক।

পুলিশ জানায়, আগামীকাল আরও অধিকসংখ্যক কারখানায় ছুটি শুরু হলে গাজীপুরের দুই মহাসড়কেই যানবাহন ও যাত্রীর চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। তাই যানজট এড়াতে আগেভাগেই যাত্রা শুরু করার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এবং সন্ধ্যার পর মহাসড়কে চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোথাও কোনো যানবাহন বিকল হলে দ্রুত অপসারণের জন্য রেকার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া মহাসড়কের পাশে অবৈধ পার্কিং ও যাত্রী ওঠানামা নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ নজরদারি চলছে।