পার্বত্য তিন জেলা রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ওপর সব ধরনের আয়কর অব্যাহতি বহাল রাখার দাবি জানিয়ে অর্থমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন পার্বত্য অঞ্চল থেকে নির্বাচিত (সংরক্ষিত নারী আসনসহ) চার সংসদ সদস্য।
গত রোববার তাঁরা এ চিঠি দেন। চার সংসদ সদস্য হলেন রাঙামাটির দীপেন দেওয়ান, খাগড়াছড়ির আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, বান্দরবানের সাচিংপ্রু জেরী এবং সংরক্ষিত ৩৪ আসনের মাধবী মারমা। চিঠিতে তাঁরা বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষজনকে মূলধারায় যুক্ত করার জন্য আয়কর অব্যাহতির বিধান রাখা হয়েছিল। ১৮ জুন রাঙামাটির সংসদ সদস্য ও সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান সংসদে আয়কর অব্যাহতি বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বাজেট অধিবেশনে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর আয়কর অব্যাহতির বিষয়টি সংশোধনের জন্য সংসদে পেশ করা হয়েছে। প্রস্তাবটি পাস হলে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের বেতন ও আর্থিক পরিসম্পদের আয় (ব্যাংকে আমানত, সঞ্চয়পত্র প্রভৃতি) ছাড়া অন্য সব আয়-উপার্জন আয়করের আওতায় আসবে। অর্থাৎ, তাঁদের আয়কর দিতে হবে। বর্তমানে ২০২৩ সালের আয়কর আইনের ষষ্ঠ তফসিলের ১৯ ধারা অনুযায়ী পার্বত্য অঞ্চলে পরিচালিত সব ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী আয়করমুক্ত সুবিধা ভোগ করেন।
চার সংসদ সদস্য বলেছেন, ১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশ এবং ২০২৩ সালের আয়কর আইনে ষষ্ঠ তফসিলে আয়কর অব্যাহতি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। আইনে বলা হয়েছে, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ‘উপজাতিদের’ কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তির আয়, যা কেবল পার্বত্য জেলায় পরিচালিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে উদ্ভূত, তা আয়করমুক্ত হবে।
অর্থমন্ত্রীর কাছে আয়কর অব্যাহতি সুবিধা বহাল রাখার আবেদনে চার সংসদ সদস্য বলেছেন, ১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশ এবং ২০২৩ সালের আয়কর আইনে ষষ্ঠ তফসিলে আয়কর অব্যাহতি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। আইনে বলা হয়েছে, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ‘উপজাতিদের’ কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তির আয়, যা কেবল পার্বত্য জেলায় পরিচালিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে উদ্ভূত, তা আয়করমুক্ত হবে।
সংসদ সদস্যরা বলেন, দেশের সাড়ে ১৬ লাখ ‘উপজাতির’ মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের ৯ লাখ ৮৯ হাজার ২৯৮ জনের সিংহভাগের পেশা জুমচাষ ও কৃষি। কাপ্তাই বাঁধের কারণে এই অঞ্চলের ৭০ শতাংশ কৃষিজমি তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা অধিকাংশ ‘উপজাতি’। এ ছাড়া নগণ্যসংখ্যক দোকানদার এবং পাঁচ হাজারের মতো সরকারি চাকরিজীবী রয়েছেন। এখনো পাহাড়িদের মধ্যে ৩৭ শতাংশ সুপেয় পানির আওতার বাইরে, ৪৫ শতাংশ বিদ্যুৎ এবং ৫০ শতাংশ স্বাস্থ্য সুবিধাবঞ্চিত। সামগ্রিকভাবে ৮০ শতাংশ পাহাড়ি আর্থসামাজিকভাবে পিছিয়ে রয়েছেন। এ অবস্থায় তাঁদের আয়কর অব্যাহতির সুবিধা অব্যাহত রাখা উচিত। তাঁরা বলেন, এবারের নির্বাচনে বেশিসংখ্যক ভোটে বিএনপির প্রার্থীরা পার্বত্য অঞ্চলে বিজয়ী হয়েছেন। আয়কর অব্যাহতি তুলে নিলে ভবিষ্যতে জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব পড়বে। এ জন্য আয়কর অব্যাহতি বহাল রেখে আইনে সংশোধনী আনার প্রস্তাব করেন সংসদ সদস্যরা।