রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে নৌকাডুবিতে নিহত দুই নারী আপন বোন বলে জানা গেছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় নৌকাডুবিতে পুষ্পা রানী চক্রবতী (৭০) ও চায়না রানী চক্রবর্তী (৫০) মারা যান। এর মধ্যে পুষ্পা রানী দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা সদরের গোপাল চক্রবর্তীর স্ত্রী ও চায়না রানী রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বগেরহাট গ্রামের বৈদ্যনাথের স্ত্রী।
গত শনিবার পুষ্পা রানী ও চায়না রানী জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার রতনপুর হিন্দুপাড়া গ্রামে তাঁর বোন মঞ্জু রানীর বাড়িতে আসেন। সেখান থেকে পুষ্পা রানী, চায়না রানীসহ ওই গ্রাম থেকে ৬৯ জন নারী–পুরুষ প্রথমে সীতাকুণ্ড, পরে রাঙামাটি যান। পাঁচবিবি উপজেলার রতনপুর হিন্দুপাড়া গ্রামের স্কুলশিক্ষক নিত্যানন্দ চন্দ্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিত্যানন্দ চন্দ্র হলেন মঞ্জু রানীর প্রতিবেশী।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে রতনপুর হিন্দুপাড়া গ্রামে গিয়ে জানা গেছে, ওই গ্রাম থেকে গত শনিবার ৬৯ জন নারী–পুরুষ ও শিশু শীবচতুদর্শীতে পূর্জা-অর্চনা করতে সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ মন্দিরে যান। গত শনিবার সন্ধ্যা ছয়টায় রতনপুর বাজার থেকে একটি বাস চড়ে রওনা দেন তাঁরা। রোববার দুপুরে বাসটি সীতাকুণ্ডে পৌঁছান। এরপর তাঁরা সেখানে পূর্জা-অর্চনা করে রাঙামাটি যান। রাঙামাটি গিয়ে তাঁরা সবাই নৌকায় ঝুলন্ত সেতু দেখতে যান।
ঝুলন্ত সেতু এলাকা থেকে রিজার্ভ বাজারে যাওয়া পথে জেলা প্রশাসকের বাসভবন এলাকায় পৌঁছালে পর্যটকবাহী নৌযানটি গাছের গুঁড়ির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে নৌযানটির তলায় বড় ছিদ্র হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে নৌকায় পানি উঠে তলিয়ে যায়। এ সময় পর্যটকদের চিৎকারে আশপাশের নৌকা ও সাধারণ মানুষ ছুটে গিয়ে তাঁদের উদ্ধারে চেষ্টা করে। ধারণক্ষমতা চেয়ে বেশি যাত্রী নেওয়ায় নৌকাটি আরও দ্রুত তলিয়ে যায়। এ সময় পুষ্পা রানী ও চায়না রানী পানিতে ডুবে মারা যান। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
ওই নৌকায় ছিলেন রতনপুর গ্রামের সুজন চন্দ্র বর্মণ। তিনি আজ বিকেলে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা সবাই রাঙামাটি ঝুলন্ত সেতু দেখে নৌকায় ফিরছিলাম। ডিসি বাংলোর কাছাকাছি এসে গাছের গুঁড়ি ধাক্কায় নৌকার তলার একটি কাঠ খুলে ভেতরে পানি ঢুকতে শুরু করে। তখন নৌকার গতি বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নৌকার তলার আরও কয়েকটি কাঠ খুলে যায়। মুহূর্তের মধ্যে নৌকাটি ডুবে যায়। পুষ্পা রানীকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর ছোট বোন চায়না রানীও পানিতে ডুবে যান। পরে তাঁদের লাশ উদ্ধার করা হয়।’
রতনপুর গ্রামে সুজয় চন্দ্র বর্মণের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তিনি গ্রামের গ্রামের রাস্তায় দাঁড়িয়ে মুঠোফোনে কারও সঙ্গে কথা বলছিলেন। পরে সুজয় বলেন, ‘আমার বাবা বিপুল চন্দ্র বর্মণ ও মা ষষ্ঠী রানীও ডুবে যাওয়া নৌকায় ছিলেন। আমার মা-বাবাসহ গ্রামের অন্যরা এখন সুস্থ আছেন। নৌকাডুবিতে প্রায় সবার মুঠোফোনে পানি ঢুকে নষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণে যোগাযোগে একটু কষ্ট হচ্ছিল।’
পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, রতনপুর গ্রামের সনাতন ধর্মাবলম্বী লোকজন রাঙামাটি গিয়েছিলেন। সেখানকার ঝুলন্ত সেতু দেখে ফেরার পথে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় দুজন নারীর মৃত্যু হয়েছে। ওই দুই নারী গত শনিবার রতনপুর গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে এসেছিলেন। পরে তাঁরা গ্রামের লোকজনের সেখানে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।