
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে নির্ধারিত অর্থ পরিশোধের পর মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে একটি পণ্যবাহী ট্রাক থেকে বাড়তি টাকা দাবি এবং চালক–সহকারীকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিআইডব্লিউটিসি ঘাট কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগকারী সাকিবুল হাসান পণ্যবাহী ট্রাকটির চালক। আজ মঙ্গলবার সকালে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গত রোববার যশোর বেনাপোল বন্দর থেকে প্রায় ৩৫ টন মার্বেল টাইলস বোঝাই করে সাভারের হেমায়েতপুরের উদ্দেশে রওনা হন। গতকাল সোমবার সকাল সাতটার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের সামনে স্কেল থেকে ওজন দিয়ে দেখেন ৩৫ টন হয়েছে। সে অনুযায়ী সরকারি টাকা পরিশোধ করে ফেরি পারাপারের বুকিং দিয়ে দৌলতদিয়া ঘাটে যান।
সাকিবুল আরও বলেন, নদী পাড়ি দিয়ে সকাল ৯টার দিকে পাটুরিয়া ঘাট টার্মিনালে পৌঁছে ট্রাকটি রেখে কিছু সময়ের জন্য মানিকগঞ্জ কুশরের চর এলাকায় নিজ বাড়িতে যান। এ সময় গাড়ির কাছে রেখে যান সহকারী শরিফ হোসেনকে।
সাকিবুলের অভিযোগ, বাড়ি গেলে মুঠোফোনে সহকারী তাঁকে জানান, বিআইডব্লিউটিসি পাটুরিয়া ঘাট কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক জামাল উদ্দিন পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি পণ্যের চালানের কপি নেন। অতিরিক্ত মালামাল বহন করা হচ্ছে জানিয়ে প্রথমে ৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং পরে ১ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করা হয়। পরে বিকেলে তিনি বাড়ি থেকে ফিরে বুকিং কাউন্টারে অবস্থানরত ব্যক্তিদের কাছে পণ্যের চালানের কপি আটকে রাখার কারণ জানতে চান। এ সময় সাকিবুলের সঙ্গে ওই কর্মকর্তা–কর্মচারীরা খারাপ আচরণ করেন। পরে অনেক তদবির করে রাত ১১টার পর গাড়িটি ছাড়িয়ে নেন।
কোনো পণ্যবাহী গাড়ির ওজন দিয়ে বুকিং রশিদ কাটার পর নতুন করে আর ওজনের প্রয়োজন পড়ে না বলে জানান গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের ওজন স্কেলের দায়িত্বরত কম্পিউটার অপারেটর মুহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, স্কেলে ওজন দিলে কম্পিউটারে ওই ট্রাকটি ৩৫ টন দেখায়। সে অনুযায়ী গাড়িচালক সরকার নির্ধারিত টাকা পরিশোধ করে বুকিং টিকিট নিয়ে ফেরিঘাটে যান।
অভিযুক্ত জামাল উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টির সঙ্গে আমি জড়িত নই। তবে সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আমিসহ কয়েকজন সহকারী ব্যবস্থাপক মিলে ফেরির রোস্টার নিয়ে কাজ করছিলাম। সহকারী ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম গাড়িচালক ও সহকারী নিয়ে আমাদের কাছে সমস্যার কথা জানান।’
বিআইডব্লিউটিসি পাটুরিয়া কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘অতিরিক্ত পণ্য বহন করায় সন্দেহের জায়গা থেকে চালান দেখতে চেয়েছিলাম। আমরা পরে ওজন দিয়ে ৩৫ টনের পরিবর্তে ৪১ টন দেখতে পাই। তিনি যেহেতু গোয়ালন্দে ৩৫ টনের টাকা পরিশোধ করেছেন এ ক্ষেত্রে চালকের কাছে বাড়তি ৬ টনের টাকা চাওয়া হয়েছিল। বাড়তি টাকা চাওয়া বা হয়রানির অভিযোগ সঠিক নয়।’