শরৎ চক্রবর্তী ওরফে মণি
শরৎ চক্রবর্তী ওরফে মণি

নরসিংদীতে ব্যবসায়ী শরৎ হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার চার আসামি ২ দিনের রিমান্ডে

নরসিংদীর পলাশে ব্যবসায়ী শরৎ চক্রবর্তী মণি (৪০) হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চারজনকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে পলাশ থানা-পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। আজ শুক্রবার ছিল রিমান্ডের প্রথম দিন।

গত সোমবার রাত ৯টার দিকে পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের সুলতানপুর এলাকায় শরৎ চক্রবর্তীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি শিবপুর উপজেলার সাধারচর ইউনিয়নের উত্তর সাধারচর গ্রামের মদন মোহন চক্রবর্তীর ছেলে। শরৎ চরসিন্দুর বাজারে পৈতৃক মুদিদোকান পরিচালনার পাশাপাশি এক্সকাভেটর (খননযন্ত্র) ভাড়া দিতেন।

এ ঘটনায় শরতের বাবা মদন মোহন চক্রবর্তী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা করেন। পরে পুলিশ ঘটনার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁরা হলেন পলাশের চরসিন্দুর ইউনিয়নের সুলতানপুর এলাকার ইমরান হোসেন (১৯), রনি মিয়া (১৯), সুমন মিয়া (৪৫) ও মেহেদী হাসান (২০)।

থানা-পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের পরপরই ঘটনাস্থল থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার একাধিক ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। সেই ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়। তাঁদের মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতে তাঁদের বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘শরৎ চক্রবর্তী হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার চারজনকে তাঁরা রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আশা করছি, দ্রুতই এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটিত হবে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত সোমবার রাত আটটার দিকে দোকান বন্ধ করে শরৎ সুলতানপুরের বাড়িতে খরগোশের বাচ্চাদের খাবার দিতে গিয়েছিলেন। বাড়ির ফটকের সামনে তালা খোলার সময় পেছন থেকে শরতের মাথায় গুলি করেন দুর্বৃত্তরা। রক্তাক্ত অবস্থায় শরৎকে স্থানীয় কয়েকজন উদ্ধার করে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত শরতের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, ১০ বছর দক্ষিণ কোরিয়ায় থাকার পর ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে ফিরে ব্যবসা শুরু করেছিলেন শরৎ। তাঁর কোনো শত্রু ছিল না। এলাকার হিন্দু-মুসলমান সবার সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক ছিল। নির্বিবাদী ও হাসিখুশি শরৎকে কী কারণে হত্যা করা হলো পুলিশের কাছ থেকেই জানতে চান। তাঁদের ধারণা, ব্যবসায়িক অংশীদার বা বন্ধুদের কেউ এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত।

শরতের বাবা মদন মোহন চক্রবর্তী প্রথম আলোকে বলেন, ‘চারজনকে গ্রেপ্তারের কথা পুলিশের মাধ্যমে শুনেছি। তবে চারজনই সুলতানপুর এলাকায় মাদকাসক্ত ও বখাটে হিসেবে পরিচিত। পুলিশকে হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা বা নির্দেশদাতাকে খুঁজে বের করতে হবে।’