
গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ীর জরুন এলাকায় ৮ দফা দাবিতে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার সকালে কোনাবাড়ীর যমুনা ডেনিমস লিমিটেড কারখানায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ কারখানাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে।
কারখানার শ্রমিকেরা বলেন, তাঁরা অনেক দিন ধরেই বেশ কিছু দাবি জানিয়ে আসছেন। আজ শনিবার সকালে শ্রমিকেরা ৮ দফা দাবিতে আন্দোলন করেন। কর্তৃপক্ষ তা না মেনে পুলিশ দিয়ে তাঁদের ওপর কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে বেশ কিছু শ্রমিক আহত হয়েছেন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শ্রমিকদের দাবিগুলো হলো কারখানার পরিচালক কাজল কান্তির পদত্যাগ, বাৎসরিক ছুটির বকেয়া টাকা ২৫ জানুয়ারির মধ্যে দেওয়া ও পরবর্তী বাৎসরিক ছুটির টাকা ডিসেম্বর মাসে পরিশোধ করা। টিফিন বিল ৫০ টাকা ও রাত ১০টার পর কাজ করানো হলে রাতের বিলের অতিরিক্ত ১৫০ টাকা দিতে হবে। হাজিরা বোনাসের ক্ষেত্রে হেলপার থেকে অপারেটর সবাইকে এক হাজার টাকা দিতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে ছুটি দিতে হবে। ফ্লোরে কোনো স্টাফ শ্রমিকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও গালাগাল দিতে পারবে না। কোনো শ্রমিক স্টাফের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে সরসরি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
পুলিশ জানায়, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই শ্রমিকেরা রাস্তা অবরোধ করেন। পরে পুলিশকে ইটপাটকেল মারলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে। আজ সকাল থেকে শ্রমিকেরা আন্দোলন শুরু করলে কারখানা কর্তৃপক্ষ বেলা ১১টার দিকে মূল ফটকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধের নোটিশ দেয়।
নোটিশে উল্লেখ আছে, শ্রমিকেরা আজ সকাল ৮টার দিকে ফ্যাক্টরিতে ঢোকার সময় কিছুসংখ্যক শ্রমিক সংঘবদ্ধভাবে প্রধান ফটকে জড়ো হয়ে বিভিন্ন রকম স্লোগানসহ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। পরে বেআইনিভাবে ফ্যাক্টরির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখে। এতে ফ্যাক্টরি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকায় নির্ধারিত রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় ফ্যাক্টরির বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। আজ থেকে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬–এর ১৩(১) ধারা মোতাবেক অনির্দিষ্টকালের জন্য যমুনা ডেনিমস লিমিটেড বন্ধ ঘোষণা করা হলো। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ও পরবর্তী সময়ে কারখানা চালু করার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে কারখানা খোলার তারিখ নোটিশের মাধ্যমে জানানো হবে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ কোনাবাড়ী অঞ্চলের পরিদর্শক মো. মোর্শেদ জামান বলেন, এ ঘটনায় শিল্প পুলিশের প্রায় ১০ জন সদস্য আহত হয়েছেন। শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কারখানার সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে।