সিলেটের জৈন্তাপুরে সীমান্ত এলাকায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) টহল দলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বিজিবির এক সদস্যসহ তিনজন আহত হয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে ১১টার দিকে জৈন্তাপুরের নিজপাট ইউনিয়নের গৌরীশঙ্কর কমলাবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিরা হলেন জৈন্তাপুরের জশপুর গৌরীশঙ্কর গ্রামের মো. আতিক আহমেদ (২০), মো. রায়হান মিয়া (২৮) ও বিজিবি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম (৪৩)। তাঁদের মধ্যে আতিক আহমদ গুলিবিদ্ধ হন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সকালে জৈন্তাপুরের নিজপাট ইউনিয়নের টিপরাখলা ঘুড়িমারা এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পিলার ১২৮৮ থেকে আনুমানিক ১৫০ গজ বাংলাদেশের ভেতর থেকে চোরাচালানের ছয়টি গরু জব্দ করে বিজিবি। এ সময় বিজিবির ওপর হামলা করে চোরাকারবারিরা। হামলার ঘটনায় বুধবার মামলা করা হয়। পরে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নিজপাট ইউনিয়নের টিপরাখলা গৌরীশঙ্কর এলাকায় যায় বিজিবির একটি টহল দল। এ সময় স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে বিজিবি সদস্যের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তিরা বিজিবি সদস্যকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। এ সময় স্থানীয় মসজিদের মাইকে ‘বিজিবি স্থানীয়দের ওপর হামলা চালাচ্ছে’ ঘোষণা দিয়ে হামলা করা হয়। এ সময় হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার চেষ্টা করে। এতে একজন গুলিবিদ্ধসহ আরও দুজন আহত হন।
খবর পেয়ে পুলিশসহ অন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত বিজিবি সদস্যকে উদ্ধার করে প্রথমে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মনসুর আলম বলেন, যে মসজিদ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, সেই মসজিদ কমিটির সভাপতিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, এলাকার একটি পরিবার অবৈধ কারবারের সঙ্গে জড়িত। মূলত তারাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
নিজপাট ইউনিয়নের যশপুর গৌরীশঙ্কর বায়তুল আমান জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি আবদুল মালিক প্রথম আলোকে বলেন, তিনি অসুস্থ। রাতে বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত ১১টার দিকে ইউপি চেয়ারম্যান তাঁকে ফোন করে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়ার বিষয়টি জানান। মুয়াজ্জিনের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, দুজন যুবক ভয় দেখিয়ে তালা খুলে মাইকে ঘোষণা দেন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর এলাকার মুসল্লিদের সঙ্গে নিয়ে তিনি জৈন্তাপুর থানার ওসির সঙ্গে দেখা করেছেন। এ ব্যাপারে দোষীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জৈন্তাপুর থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় বিজিবির একজন সদস্য ও স্থানীয় দুজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন গুলিবিদ্ধ। তবে কার গুলিতে তিনি আহত হয়েছেন, সেটা জানা যায়নি। এ ব্যাপারে আজ বেলা দুইটা পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে।
আজ দুপুরে বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গতকাল রাত পৌনে ১১টার দিকে সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে আনুমানিক ২০০ গজ বাংলাদেশের ভেতরে জৈন্তাপুরের টিপরাখলা গ্রামে বিজিবির টহল দলের সদস্যরা নিয়মিত টহলের জন্য সীমান্তের দিকে অগ্রসর হলে যশপুর গ্রামের চোরাকারবারিরা একত্রিত হয়ে দেশি অস্ত্র, লাঠি ও বাঁশ দিয়ে আকস্মিক হামলা করে। চোরাকারবারিদের হামলায় বিজিবির একজন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। বিজিবি টহল দল তাদের বারবার মৌখিকভাবে সতর্ক করে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। আহত বিজিবির সদস্যকে জৈন্তাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।