
বান্দরবানে মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাইং ও খেয়াংদের সাংলান উপলক্ষে মৈত্রী পানিবর্ষণ অনুষ্ঠান উদ্যাপিত হয়েছে আজ বুধবার। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর হাজারো নারী-পুরুষের সরব উপস্থিতিতে প্রাণের জোয়ার নেমেছিল জেলা শহরের রাজার মাঠে। ভালোবাসা ও সম্প্রীতি কামনায় মারমা তরুণ-তরুণীরা দলে দলে পানিবর্ষণে অংশ নেন। পানিবর্ষণ শেষে সন্ধ্যায় বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর শিল্পীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলে গভীর রাত পর্যন্ত।
জেলা শহর ছাড়াও শহরতলির চেমি ডলুপাড়া ও গুংগুরুমুখ খেয়াংপাড়ায় মৈত্রী পানিবর্ষণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় পানিভর্তি গামলা ও নৌকার দুপাশে দাঁড়ানো প্রতিযোগীরা পরস্পরকে ভিজিয়ে দেওয়ার প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠেন। ছোট-বড় সব বয়সী নারী-পুরুষ পানি ছিটিয়ে পরস্পরকে ভালোবাসা জানান। এদিন সমগ্র জেলা উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছিল। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ উৎসবে শামিল হন। এ সময় সাংগ্রাইংয়ের গানে মুখরিত হয়ে ওঠে উৎসব প্রাঙ্গণ।
শহরের রাজার মাঠ, চেমি ডলুপাড়া ও গুংগুরুমুখ খেয়াংপাড়ায় তিনটি উৎসব উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। শহরের রাজার মাঠে আজ বেলা দুইটার দিকে উৎসব উদ্বোধনের সময় মন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি স্পর্শকাতর অঞ্চল। তাই সমতার ভিত্তিতে সবার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি এই অঞ্চলে বসবাসরত ১৩টি জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। সেই লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় তথা সরকার কাজ করছে। উল্লেখ্য, পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হওয়ার পর বান্দরবানে এটিই দীপেন দেওয়ানের প্রথম সফর। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিংপ্রু জেরী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থানজামা লুসাই, জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস, পুলিশ সুপার আবদুর রহমান প্রমুখ।
মৈত্রী পানিবর্ষণ আয়োজনে বান্দরবান জেলা শহরের রাজার মাঠে হাজারো পাহাড়ি ও বাঙালি নারী-পুরুষের সমাগম হয়। পানিবর্ষণ উৎসবে যোগ দিয়েছেন সবাই। উৎসব উদ্যাপন পরিষদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগামীকাল বৃহস্পতিবারও মৈত্রী পানিবর্ষণ ও পিঠা তৈরির আয়োজন হবে জেলাজুড়ে। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সাংগ্রাইং উৎসব শেষ হবে। ১৩ এপ্রিল শুরু হওয়া উৎসবের তৃতীয় দিন ছিল আজ। জেলার বিভিন্ন স্থানে ম্রোদের চাংক্রান উৎসবও উদ্যাপিত হয় আজ। আলীকদম ও রুমা উপজেলায় এ উপলক্ষে চাংক্রান মেলার আয়োজন করা হয়ে। চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা ও ত্রিপুরাদের বিজু-বিষু-বৈসু গতকাল মঙ্গলবার শেষ হয়েছে।
উদ্বোধনের সময় দীপেন দেওয়ান বলেন, তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে বান্দরবান প্রকৃতিগতভাবে ও ভাষা-সংস্কৃতিতে সবচেয়ে বৈচিত্র্যময়। এই বৈচিত্র্যের সংস্কৃতিকে সমতাভিত্তিক উন্নয়নের মাধ্যমে বিকাশ ঘটাতে হবে। এ জন্য মন্ত্রী হিসেবে সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাবেন।