মো. আসাদুজ্জামান
মো. আসাদুজ্জামান

প্রথমবার এমপি হয়ে মন্ত্রী আসাদুজ্জামান, শৈলকুপায় আনন্দমিছিল

সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন। আজ মঙ্গলবার বিকেলে অন্য মন্ত্রীদের সঙ্গে শপথ নিয়েছেন ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনের এই সংসদ সদস্য।

আসাদুজ্জামান বিএনপির কেন্দ্রীয় মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তাঁর মন্ত্রিত্ব পাওয়ার খবরে বিকেলেই স্থানীয় নেতা-কর্মীরা শৈলকুপা শহরে আনন্দমিছিল বের করেন। মিছিলটি উপজেলা শহর ঘুরে চার রাস্তার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

১৯৭১ সালের ৩১ জানুয়ারি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বারোইপাড়া গ্রামে জন্ম নেন আসাদুজ্জামান। তাঁর বাবা শেখ মো. ইসরাইল হোসেন ও মা বেগম রোকেয়া। তিনি দুই মেয়ের বাবা। তিনি ১৯৮৭ সালে এসএসসি ও ১৯৮৯ সালে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রি লাভ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালে ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত জাসদ ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৯৩ সালে তিনি ওই সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে ১৯৯৪ সালে জাসদ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগদান করেন। তিনি দলের কেন্দ্রীয় মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট তিনি বিএনপির পদ ছেলে অ্যাটর্নি জেনারেল হন।

প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রী হলেন মো. আসাদুজ্জামান। এলাকায় চলছে আনন্দমিছিল ও মিষ্টি বিতরণ। মঙ্গলবার বিকেলে

২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর পদত্যাগ করে বিএনপির মনোনয়নে ধানের শীষের প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেন। নির্বাচনে তিনি ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩৮১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আবু সালেহ মোহাম্মদ মতিউর রহমান পান ৫৭ হাজার ৫৫ ভোট। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ১৯ কোটি ৮৩ লাখ ৫৪ হাজার ৭৬৫ টাকা।

শৈলকুপা শহরের ব্যবসায়ী ও বিএনপির কর্মী মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ভোটের পর থেকেই তাঁরা আশা করছিলেন মো. আসাদুজ্জামান মন্ত্রী হতে পারেন। তাঁর মতো পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক নেতা নতুন বাংলাদেশের মন্ত্রী হবেন, এটা তাঁদের প্রত্যাশা ছিল।

স্থানীয় বিএনপির নেতা রাকিবুল ইসলাম জানান, আজ তাঁরা শহরে আনন্দমিছিল করেছেন। তবে নেতারা অনেকেই ঢাকায় অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, নবাগত মন্ত্রী ঝিনাইদহের উন্নয়নে বেশি বেশি ভূমিকা রাখবেন।