
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে সাতজনকে ঠেলে পাঠানোর (পুশইন) চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসী। তাদের বাধার মুখে ওই ব্যক্তিরা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে না পেরে ভারতের কাঁটাতারের বেড়ার পাশে অবস্থান নিয়েছেন।
আজ শনিবার ভোরে সীমান্তের ১০৪ নম্বর মেইন পিলারের ৫ নম্বর সাব-পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে সীমান্তে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং বাহিনীটি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছে।
বিজিবি ও স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার সূত্রে জানা গেছে, ভোরে শিশু, নারী ও পুরুষসহ সাতজনকে তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের হাটপাড়া এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুললে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
এই সাতজনের মধ্যে তিনজন পুরুষ, তিনজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। বিজিবির বাধার মুখে তাঁরা ফিরে গিয়ে ভারতের কাঁটাতারের বেড়ার পাশে অবস্থান নেন। তবে বিএসএফ তাঁদের নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেয়নি বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ভোররাতে বিএসএফ কাঁটাতারের বেড়ার গেট খুলে ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয়। তাঁরা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি ও গ্রামবাসী একযোগে বাধা দেয়। পরে তাঁরা আবার কাঁটাতারের কাছে ফিরে যান। বর্তমানে সীমান্তের ওপারে বিএসএফ এবং এপারে বিজিবি ও গ্রামবাসী সতর্ক অবস্থানে আছেন।
সকাল থেকে বিজিবি হ্যান্ডমাইকে পুশইনের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছে। একই সঙ্গে ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থানরত ব্যক্তিদের ফিরিয়ে নিতে বিএসএফকে আহ্বান জানানো হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।
তেঁতুলবাড়িয়া বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ প্রবেশ বা পুশইনের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। এ বিষয়ে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছে এবং সীমান্তে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।