কালীগঞ্জে আ.লীগ কার্যালয়ে ককটেল হামলার মামলায় আসামিরা বিএনপি-ছাত্রদলের

ঝিনাইদহ জেলার মানচিত্র
ঝিনাইদহ জেলার মানচিত্র

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ককটেল হামলার অভিযোগে দায়ের করা আওয়ামী লীগ নেতার মামলায় ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সাতজনের নাম উল্লেখসহ ও অজ্ঞাত  ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ঘটনার বিচার চেয়ে আজ সোমবার সন্ধ্যায় বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

গতকাল রোববার রাতে এই ককটেল হামলার অভিযোগ করেছে আওয়ামী লীগ। তবে ছাত্রদলের কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মারুফ বিল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ১০ ডিসেম্বরের ঢাকার গণসমাবেশ বানচাল করতে সরকারি দল নানা পন্থা বেছে নিচ্ছে। এই মামলা তারই একটা অংশ। মিথ্যা ককটেল বিস্ফোরণের নাটক সাজিয়ে ছাত্রদলের উদীয়মান দুই নেতাসহ বেশ কয়েকজনের নামে মামলা দেওয়া হয়েছে। তিনি এই ‘মিথ্যা’ মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

আজ বিকেলে বারোবাজার গিয়ে দেখা যায়, বাজারে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে শতাধিক নেতা-কর্মী ভিড় করেছেন। এরপর সন্ধ্যায় তাঁরা বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করে এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানান।

আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের পার্শ্ববর্তী কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দোকানিদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাঁরা কেউ কথা বলতে চাননি। নাম প্রকাশ না করে এক দোকানি বলেন, শীতের সময় বাজারটির বেশির ভাগ দোকান রাত নয়টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। যে কারণে ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়টি তাঁরা অবগত নন। অপর এক দোকানি বলেন, বেশ কিছু দিন এলাকার পরিবেশ ভালো ছিল, হঠাৎ করে খারাপ হয়ে গেল। ইতিমধ্যে এই ককটেল বিস্ফোরণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিরোধী পক্ষের অনেক নেতা-কর্মী আজ বাজারে আসেননি।

মামলাটি  করেছেন আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান। মামলায় যাঁদের নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে তাঁরা হলেন ছাত্রদলের বারোবাজার ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি ও ফুলবাড়ি গ্রামের আবু হোসেনের ছেলে সোহেল রানা (২৪), সাধারণ সম্পাদক ও মঙ্গলপোতা গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে শাওন আহম্মেদ (২৪), বিএনপি কর্মী ফুলবাড়ি গ্রামের রফি উদ্দিন সরদারের ছেলে মুনছুর আলী (৪৫), পিরোজপুর গ্রামের ভোলা জোয়ার্দ্দারের ছেলে শরিফুল ইসলাম (৪৫), বেলাট-দৌলতপুর গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে তরিকুল ইসলাম (৪০), ছাত্রদল কর্মী একই গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে রাকিব (২২) এবং হাসিলবাগ গ্রামের ফজলে খার ছেলে শাকিল খা (২৪)।

কার্যালয়ে ককটেল হামলার বর্ণনা দিয়েছেন ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, রোববার রাত ১০টার দিকে তিনি কালীগঞ্জ শহর থেকে ফিরে বারোবাজার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে বসেন। সেখানে বসার ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে বসে তিনি মুঠোফোনে খেলার খবর দেখার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে আরও দুজন ছিলেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ দেখতে পান, ৬ থেকে ৭টি মোটরসাইকেলে হেলমেট পরা ব্যক্তিরা কালীগঞ্জের দিকে যাচ্ছেন। এরপর মুহূর্তের মধ্যে তিনটি মোটরসাইকেল ঘুরে এসে ককটেল ছুড়ে পালিয়ে যায়। এ সময় ককটেলটি কার্যালয়ের সামনের একটি ফেস্টুনে লেগে বিস্ফোরিত হয়, যে কারণে তাঁরা প্রাণে বেঁচে যান।

আবুল কালাম আজাদ দাবি করেন, তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে এবং নাশকতা সৃষ্টির জন্য এই হামলা চালানো হয়েছে।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রহিম মোল্লা জানান, আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় তাঁরা মামলাটি তদন্ত করছেন। আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টাও চলছে বলে জানান।