
ভোলার দৌলতখান উপজেলায় নির্বাচনী প্রচার নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মেদুয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মুন্সিরহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে বোরহানউদ্দিনে নির্বাচনী প্রচারে নারী কর্মীদের হেনস্তার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে জামায়াতের মহিলা শাখা। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে থানা মোড় এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দৌলতখানের মুন্সিরহাট এলাকায় ভোলা-২ (দৌলতখান-বোরহানউদ্দিন) আসনের জামায়াতের প্রার্থী মুফতি ফজলুল করিমের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছিলেন জামায়াতের নেতা-কর্মীরা। এ সময় একই এলাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিমের কর্মী-সমর্থকেরাও অবস্থান করছিলেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত জামায়াতের পাঁচজনকে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন মো. রাসেল, মো. নাঈম, মো. বিল্লাল, মো. মিজান ও মো. সিফাত। তাঁরা সবাই স্থানীয় জামায়াতের কর্মী-সমর্থক। অন্যদিকে বিএনপির আহতদের মধ্যে আছেন রাসেল (২৬), মিজান (৩৫), রাকিব (২৭) ও রিয়াজ (২৭)। তাঁদের মধ্যে তিনজন দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
দৌলতখান উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আশ্রাফ উদ্দিন ফারুক অভিযোগ করে বলেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিএনপির নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা ও রড নিয়ে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করেছে। এতে তাঁদের অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সাজু বলেন, জামায়াতের নেতা-কর্মীরা প্রচারের নামে পরিকল্পিতভাবে বিএনপির কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। এতে তাঁদের তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁরাও আইনি পদক্ষেপ নেবেন।
দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম শিকদার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
এদিকে নির্বাচনী প্রচারকালে নারী কর্মীদের হেনস্তার প্রতিবাদে বিকেলে বোরহানউদ্দিন উপজেলা থানা মোড় এলাকায় মানববন্ধন করেছে জামায়াতের মহিলা শাখা। মানববন্ধনে বোরহানউদ্দিন পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা মো. আমান উল্যাহ, সেক্রেটারি মো. মাকসুদুর রহমান ও মহিলা শাখার কর্মী নাসরিন বেগম বক্তব্য দেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণকারী নারীদের বাধা দিচ্ছেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। তাঁরা নারী হেনস্তার প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষী ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রচারে নারীদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান।