জেলে নিখোঁজের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোস্টগার্ডের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সংঘর্ষ। বৃহস্পতিবার সকালে বাগেরহাটের মোংলায়
জেলে নিখোঁজের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোস্টগার্ডের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সংঘর্ষ। বৃহস্পতিবার সকালে বাগেরহাটের মোংলায়

কোস্টগার্ড স্টেশনে হামলা মামলায় নিখোঁজ মিরাজের স্ত্রী, মা-বোনসহ তিন শতাধিক আসামি

বাগেরহাটের মোংলায় সুন্দরবন লাগোয়া কোস্টগার্ডের হারবাড়িয়া স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে মোংলা থানায় মামলা হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা, দাঙ্গা-হাঙ্গামাসহ বিভিন্ন অভিযোগে কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে করা ওই মামলায় ৪৪ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ২৫০-৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের হারবাড়িয়া স্টেশনের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মো. শাহিদুর রহমান শাহিন বাদী হয়ে মোংলা থানায় মামলাটি করেন। এ ঘটনায় এজাহারনামীয় তিন আসামিসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে (জেলহাজত) পাঠানো হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, এক জেলে নিখোঁজের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকালে কোস্টগার্ডের সঙ্গে জয়মনির ঠোঁটা এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সেখান থেকে ওই সংঘাতের সূত্রপাত। নিখোঁজ ওই জেলার নাম মিরাজ শেখ, দুই মাস ধরে তাঁর সন্ধানে পরিবার বিভিন্ন স্থানে ধরনা দিচ্ছে। নিখোঁজ মিরাজের পরিবার ও গ্রামবাসীর অভিযোগ, কোস্টগার্ড গত ১০ এপ্রিল মিরাজকে জয়মনির ঠোঁটা থেকে তুলে নিয়ে যায়।

বৃহস্পতিবারের ঘটনায় কোস্টগার্ডের করা মামলার ১ নম্বর আসামি মুক্তা খাতুন। তিনি নিখোঁজ মিরাজের স্ত্রী। মিরাজের বোন লিজা ইসলাম ও মা তাসলিমা বেগমকে এই মামলার ২ ও ৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে। এই তিনজনকেই বৃহস্পতিবার আটক করে কোস্টগার্ড। মামলার এজাহারনামীয় ৪৪ আসামির প্রায় সবার বাড়ি মোংলা উপজেলার জয়মিন গ্রামে।

এজাহারে বলা হয়, ১১ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে (এজাহারনামীয়) আসামিরা গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে বেআইনিভাবে সমবেত হয়ে স্থানীয় লোকজনকে উত্তেজিত করে ১৫-২০টি নৌকায় করে হারবাড়িয়া কোস্টগার্ড স্টেশনের পন্টুন এলাকায় জড়ো হন। এ সময় তারা সরকার ও কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকার বিদ্বেষমূলক, হিংসাত্বক ও উসকানিমূলক স্লোগান দিতে দিতে স্টেশনে প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। হামলাকারীরা ধারালো দা, ছুরি, কিরিচ, লোহার রড, বঁটি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে কোস্টগার্ড সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং দায়িত্ব পালনে বাধা দেন। এ সময় পন্টুনের জানালার কাচ, চেয়ার, ফ্যান, লাইট, টেবিলসহ বিভিন্ন সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করা হয়।

এ ছাড়া একটি আউটবোর্ড ইঞ্জিন, একটি আরবি-১০০১ বোট, নয়টি সোলার প্যানেল, চারটি বড় ব্যাটারি, কয়েকটি ফ্যান, গ্যাসের চুলা, লাইট ও প্লাস্টিকের টেবিল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এতে প্রায় ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার সময় আত্মরক্ষা, অস্ত্রাগারসহ সরকারি মালামাল রক্ষায় উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে ৪৫টি ফাঁকা গুলি ছোড়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার সকালের ঘটনায় রাতে কোস্টগার্ড থানায় মামলা করে। ওই ঘটনায় কোস্টগার্ড ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজন এজাহারনামীয় আসামি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের শুক্রবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার হারবাড়িয়া স্টেশনে হামলায় বনদস্যু ও তাঁদের সহযোগীদের সম্পৃক্ততা রয়েছে মনে করছে কোস্টগার্ড। শুক্রবার সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম এ ধারণার কথা বলেন।