
পয়লা বৈশাখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টাঙ্গাইলে আসছেন। টাঙ্গাইল থেকে তিনি ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। সোমবার টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শনে এসে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, আগামী চার বছরের মধ্যে এই কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শেষ হবে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল কর্মকর্তা-১ মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত সফরসূচিতে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঙ্গলবার সকাল ৮টায় সড়কপথে ঢাকা থেকে রওনা হবেন। প্রথমে সকাল ১০টায় টাঙ্গাইল শহরের সন্তোষে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর কবর জিয়ারত করবেন। পরে সাড়ে ১০টায় শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ প্রি-পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। এরপর তিনি দুপুর সোয়া ১২টায় শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে কৃষি মেলার উদ্বোধন করবেন। পরে সার্কিট হাউসে নামাজের বিরতি শেষে বেলা দুইটায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন।
টাঙ্গাইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডের মোট ১ হাজার ৪৭০ জন কৃষক প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে এই কার্ড পাচ্ছেন। এর মধ্যে ১০০ জন কৃষক প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশস্থলে উপস্থিত থাকবেন। ১৫ জন কৃষকের হাতে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষক কার্ড তুলে দেবেন।
সোমবার সরেজমিন শহীদ মারুফ স্টেডিয়াম ও পৌর উদ্যানে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানস্থল ও কৃষি মেলা প্রাঙ্গণ সাজানো হচ্ছে। শহরজুড়ে চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও শোভাবর্ধনের কাজ।
জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক বলেন, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এটিই তাঁর টাঙ্গাইলে প্রথম সফর। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে পুরো জেলায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ। তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত।
সোমবার দুপুরে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে কৃষক কার্ড বিতরণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শনে আসেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘কালকের দিনটা ঐতিহাসিক দুই অর্থে। এক. বছরের প্রথম দিন। দুই. বাংলাদেশে প্রথম যে কৃষক কার্ড চালু হতে যাচ্ছে, তার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন টাঙ্গাইলেই হতে যাচ্ছে। আগামীকাল টাঙ্গাইলের জন্য ও বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিক দিন।’
কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘একেকটি ইউনিয়নে তিনটি করে ব্লক আছে। সারা বাংলাদেশ থেকে বেছে ১১টি ব্লকে এই কার্ড দেওয়া শুরু হবে। এটাকে আমরা বলি প্রি-পাইলটিং। যেকোনো কাজ শুরু করার আগে আমরা অনেক চিন্তাভাবনা করি। অনেক হিসাব-নিকাশ করে এটা শুরু হয়েছে। তারপরও প্র্যাকটিক্যালি ফিল্ডে যাওয়ার পর অনেক ভুলভ্রান্তি অথবা নতুন কিছু সংযোজন-বিয়োজনের প্রশ্ন আসে। এটার জন্য প্রথম সারা বাংলাদেশে টাঙ্গাইলসহ ১১টি পয়েন্টে প্রি-পাইলটিং শুরু হবে। তারপর পাইলটিং হবে। তারপর র্যামডমলি কার্ড দেওয়া শুরু হবে। আমরা আশা করছি, আগামী চার বছরের মধ্যে সারা বাংলাদেশে কৃষক কার্ড বিতরণ শেষ হবে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর ও ভুঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য আবদুস সালাম, জেলা প্রশাসক শরীফা হক, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম ওবায়দুল হক, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামসুল আলম সরকার প্রমুখ।