প্রথম আলো–শিখো জিপিএ-৫ কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস। কুষ্টিয়া শিল্পকলা একাডেমি। ৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রথম আলো–শিখো জিপিএ-৫ কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস। কুষ্টিয়া শিল্পকলা একাডেমি। ৬ অক্টোবর ২০২৬

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মা

মেয়ের জন্মের সময়ও পড়েছি, এখন সেই মেয়েকে সাফল্যের স্বীকৃতি পেতে দেখে খুশি

তাসনিয়া আরেফীন যখন কলেজে পড়েন, তখন জন্ম মেয়ে সুবাইয়া সাদনিনের। মেয়েকে লালন–পালনের পাশাপাশি তাঁকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়েছিল। এরপর করেছেন চাকরিও। সেই মেয়েকে নিয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসেছেন তাসনিয়া আরেফীন। মেয়েকে সাফল্যের স্বীকৃতি পেতে দেখে আপ্লুত তিনি।

আজ মঙ্গলবার কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত শিখো–প্রথম আলো জিপিএ–৫ কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনায় আসেন তাসনিয়া আরেফীন। জানালেন, ভোর পাঁচটায় উঠে ঝিনাইদহের শৈলকুপা শহর থেকে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে কুষ্টিয়ায় এসেছেন।

মূল অনুষ্ঠান শুরুর আগেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পদচারণে মুখর হয়ে ওঠে শিল্পকলা একাডেমি চত্বর

তাসনিয়া আরেফীন বলেন, ‘জীবনে অনেক কষ্ট করেছি। নিজে পড়াশোনা করে চাকরি করেছিলাম। মেয়ে জন্মের সময়ও পড়াশোনা করেছি। এখন মেয়ে পড়ছে। মেয়ে তার পড়াশোনার অর্জনের স্বীকৃতি পাচ্ছে, এতেই অনেক খুশি।’

সুবাইয়া সাদনিন শৈলকুপা পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ–৫ পেয়েছে। ভর্তি হয়েছে শৈলকুপা সরকারি ডিগ্রি কলেজে। মেয়েকে চিকিৎসক বানাতে চান বলে জানালেন মা তাসনিয়া আরেফীন।

সুবাইয়াদের মতো কৃতীদের পদচারণে মূল অনুষ্ঠান শুরুর এক ঘণ্টা আগেই জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন মুখর হয়ে ওঠে। প্রায় ১ হাজার ১০০ কৃতী শিক্ষার্থী জড়ো হয়েছিল সেখানে। শিল্পকলা মিলনায়তন ৬০০ আসনের। বাকি শিক্ষার্থীরা মিলনায়তনের সিঁড়ি ও সামনের খালি জায়গায় বসে পড়ে। অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল তাদের উল্লাস ও উন্মাদনা।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান

প্রথম আলোর আয়োজনে ও শিক্ষার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘শিখো’র পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত হচ্ছে জিপিএ–৫ প্রাপ্ত কৃতী সংবর্ধনা। ‘স্বপ্ন দেখো জীবন গড়ো’ স্লোগান নিয়ে সারা দেশে ২০২৬ সালে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ–৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ৬৪ জেলায় এ সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে।

আয়োজনটি পাওয়ার্ড বাই বিকাশ এবং সহযোগিতায় থাকছে কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, সেভয় আইসক্রিম, কনকা–গ্রি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কোয়ালিটি গ্রুপ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, জিংক বি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস, আম্বার আইটি লিমিটেড, এটিএন বাংলা ও প্রথম আলো বন্ধুসভা।

সংবর্ধনার কুষ্টিয়া পর্বের মূল অনুষ্ঠান সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। বন্ধুসভার সদস্য এথেনা আশরাফ আরোবীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর কুষ্টিয়ার নিজস্ব প্রতিবেদক তৌহিদী হাসান।

সংবর্ধনা ঘিরে ছিল শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল লতিফ বলেন, ‘আগামী দিনে উচ্চমাধ্যমিকে যারা জিপিএ-৫ পাবে, তাদের জন্য কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে পুরস্কার দেওয়ার আয়োজন থাকবে। তাই তোমরা ভালো করে পড়ালেখা করবে। আরও উচ্চপর্যায়ে গিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেবে।’

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আকলিমা খাতুন ইরা বলেন, ‘আজকে তোমরা যারা এখানে উপস্থিত হয়েছো, তারা সবাই মেধাবী মুখ। তোমরাই একদিন দেশকে নেতৃত্ব দেবে। তোমরা ভালো মানুষ হও আগে, এগিয়ে যাও সেই প্রত্যাশা করি।’

অতিথিদের সঙ্গে কুইজ বিজয়ী শিক্ষার্থীরা

অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জয় ছিনিয়ে আনার আহ্বান জানান প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ। এরপর কুইজ বিজয়ী ১০ কৃতী শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার হিসেবে কিশোর আলো ও বিজ্ঞানচিন্তা ম্যাগাজিন তুলে দেন।

কৃতী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে চারজন অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তব্য দেয়। সাংস্কৃতিক পর্বে গান পরিবেশন করে কৃতী শিক্ষার্থী আযহা সবুর সূর্বণা, উম্মে মরিয়াম পাপড়ী, অনুপূর্বা চক্রবর্তী, অপ্রারৃতি, ওয়াসিকা রহমান আইফা। ছামিয়া তাছনীম ‘বিদ্রোহী’ কবিতা আবৃত্তি করেন। অনুষ্ঠানের শেষ আধা ঘণ্টায় শিল্পী মিঠুন রায়ের গানে মেতেছিল শিক্ষার্থীরা।