
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির (২৬) মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার। আগামী শনিবার তাঁর মরদেহ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ওই দিন বিকেলে বাদ আসর জানাজা শেষে পারিবারিক কবর স্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।
ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে গতকাল মঙ্গলবার জানানো হয়েছে, ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৭ মে রাত ৮টা ৫০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজে (ইকে ০২২০) করে বৃষ্টির মরদেহ পাঠানো হবে। দুবাইয়ে বিরতি ও ফ্লাইট (ইকে ০৫৮২) পরিবর্তনের পর ৯ মে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে বৃষ্টির মরদেহ ঢাকায় পৌঁছাবে।
মরদেহ দেশে পাঠানোর আগে আজ বুধবার স্থানীয় সময় বেলা দুইটায় যুক্তরাষ্ট্রের টাম্পায় বৃষ্টির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছানোর বিষয়টি তত্ত্বাবধান করছে মায়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেট। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরামর্শক্রমে পুরো বিষয়টি সমন্বয় করছে ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস।
নিহত বৃষ্টির গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুর এলাকায়। তাঁর বাবা জহির উদ্দিন আকন দুই যুগের বেশি সময় ধরে রাজধানীর মিরপুরে পরিবার নিয়ে থাকেন। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানিতে কর্মরত। দুই ভাই–বোনের মধ্যে বৃষ্টি ছোট। তিনি ফ্লোরিডার টাম্পায় ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) পিএইচডির শিক্ষার্থী ছিলেন।
বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন আজ দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে পুলিশ বৃষ্টির লাশের উদ্ধারকাজ সম্পূর্ণ করেছে। লাশটি গলিত ও বস্তাবন্দী ছিল বলে তারা জানিয়েছে। লাশটি কীভাবে, কতটুকু দৃশ্যমান রয়েছে, তা নিয়ে কিছু বলেনি। মেয়েটার মুখ শেষবারের মতো দেখতে চাই। জানি না সেই ইচ্ছা পূরণ হবে কি না। শনিবার বিমানবন্দরে লাশটি পৌঁছানোর পরেই বাড়িতে বৃষ্টিকে নিয়ে আসব।’
বৃষ্টির চাচাতো ভাই ওবায়দুর আকন জানান, বৃষ্টির খণ্ডিত মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া সরকারের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে। আগামী শনিবার সকালে ঢাকা থেকে লাশটি মাদারীপুরে আসবে। পরে জানাজা শেষে পরিবারিক কবরস্থানে বৃষ্টিকে দাফন করা হবে। ইতিমধ্যে কবর দেওয়ার স্থানটিও নির্ধারণ করা হয়েছে। শনিবার সকালেই কবর খোঁড়ার কাজ শুরু করা হবে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক শেষ করে বৃষ্টি রাজধানীর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে ভর্তি হন। তবে স্নাতকোত্তর শেষ করার আগেই ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ফুল স্কলারশিপে পিএইচডি করার সুযোগ পেলে ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট ঢাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান বৃষ্টি।
ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই শিক্ষার্থী বৃষ্টি ও জামিল আহমেদ লিমন গত ১৭ এপ্রিল নিখোঁজ হন। ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন লিমন। ৪ মে নিহত লিমনের মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। এ ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২৬ বছর বয়সী এই মার্কিন তরুণ ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার প্রাক্তন শিক্ষার্থী।
এদিকে লিমন ও বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অঙ্গরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টাম্পা বে ২৮–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ৮ মে স্থানীয় সময় শুক্রবার (বাংলাদেশ সময় পরদিন শনিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের বসন্তকালীন সমাবর্তনে নিহত দুজনকে এই ডিগ্রি দেওয়া হবে।