
চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় সাইকেল চালানোর জন্য তৈরি করা পথ উদ্বোধনের পরদিনই গাড়ি রাখার জায়গায় পরিণত হয়েছে। সেখানে ব্যক্তিগত গাড়ি, লরি ও কাভার্ড ভ্যান, সিএনজিচালিত অটোরিকশা রেখে দেওয়া হচ্ছে। মূল সড়ক থেকে ট্র্যাকটি আলাদা করতে তৈরি ফুলের বাগানের মাঝের বড় ফাঁকা অংশ দিয়ে ঢুকছে এসব যানবাহন।
বিমানবন্দর সড়কে ২ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ সাইকেল ট্র্যাকটি গত শুক্রবার উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শনিবার সেখানে গাড়ি রাখার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নগরের ফুটপাতের মতো সাইকেল ট্র্যাকটিও দখল হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন অনেকে।
এরপর আজ রোববার দুপুরে অভিযান চালায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। ট্র্যাকে রাখা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়। একটি ব্যক্তিগত গাড়ি ও একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ছোট কাভার্ড ভ্যানকে তিন হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, জায়গাটি সাইকেল চালানোর জন্য নির্ধারিত, তা চালকেরা জানতেন না বলে দাবি করেন। ফাঁকা জায়গা দেখে গাড়ি রেখেছিলেন।
মূল সড়কের লাগোয়া সাইকেল ট্র্যাকটি আলাদা করতে ফুলের গাছ লাগানোর জায়গা তৈরি করা হয়েছে। তবে এর মাঝেমধ্যে বড় ফাঁকা অংশ রয়েছে। সেগুলো দিয়েই অটোরিকশার পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি, লরি ও কাভার্ড ভ্যান ঢুকে পড়ছে। প্রণয় চাকমা বলেন, বড় গাড়ির প্রবেশ ঠেকাতে এসব ফাঁকা অংশ বন্ধ করতে হবে। শুধু সাইকেল ঢোকা ও বের হওয়ার জন্য ছোট জায়গা রাখতে হবে। এ বিষয়ে প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের জানানো হবে।
ট্র্যাকটি চেনাতে নির্দেশক ফলক বসানোও প্রয়োজন বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, তাঁরা আর সেখানে গাড়ি রাখতে দেবেন না। সাইকেল চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে এবং অবৈধভাবে গাড়ি রাখা ঠেকাতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সাইকেল ট্র্যাকে গাড়ি রাখার ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর শনিবার বিকেলে নগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউটে এক অনুষ্ঠানে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মেয়র শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, কেউ সাইকেল ট্র্যাক বা ফুটপাত দখল করলে শুধু মেয়র কিংবা সিটি করপোরেশনকে দোষারোপ না করে নাগরিকদেরও প্রতিবাদ করতে হবে। মেয়র বলেন, ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের জন্য, ব্যক্তিগত গাড়ি রাখার জন্য নয়। অথচ অনেকে নিজেরাই ফুটপাতে গাড়ি রাখেন। আবার দখলমুক্ত করতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে সমালোচনা করেন। এভাবে শহরে শৃঙ্খলা আনা সম্ভব নয়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নগরবাসীর মন্তব্যে ট্র্যাকটি দখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা উঠে এসেছে। একটি ফেসবুক পোস্টে মো. মঈন উদ্দিন নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘কয়েক দিন পর চায়ের দোকান দিবে।’ ফোরকান আহমেদ নামের আরেক ব্যক্তির মন্তব্য, ‘কিছুদিন পর হকারদের মেলা বসবে।’ শফিউল আলম নামের আরেকজন ব্যাটারিচালিত গাড়ির দখলে ট্র্যাকটি চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।