ভৈরবে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই মামলা, আসামি ৭৮৬

কিশোরগঞ্জ জেলার মানচিত্র
কিশোরগঞ্জ জেলার মানচিত্র

অবরোধের প্রথম দিনে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দুটি মামলা করেছে পুলিশ। দুই মামলায় আসামির সংখ্যা ৭৮৬। এই দুই মামলারই প্রধান আসামি ভৈরব উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম। আজ ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম প্রথম আলোকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, অবরোধের প্রথম দিন মঙ্গলবার সকালে বিএনপির সমর্থকেরা ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের ভৈরব পৌর শহরের মুসলিম মোড় এলাকায় পিকেটিং করেন। এ সময় তাঁরা গাড়ি ভাঙচুরসহ নাশকতার চালানোর চেষ্টা করেন। পরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তখন বিএনপির সমর্থকেরা পুলিশের ওপর হামলা চালান, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। তখন কয়েকটি কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করা হয়। এ ঘটনায় একটি মামলা হয় সন্ত্রাস দমন আইনে। অপরটি হয় বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে। দুই মামলারই বাদী উপপরিদর্শক (এসআই) শহীদুর রহমান। উভয় মামলার এজহারভুক্ত আসামি ৯৩ জন করে। দুই মামলার অজ্ঞাতনামা ৩০০ জন করে আসামি করা হয়। অর্থাৎ দুই মামলার মোট আসামি ৭৮৬ জন।

উভয় মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন পৌর বিএনপির সভাপতি শাহিন মিয়া, সহসভাপতি ফয়জুল্লাহ মিয়া, উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবুল বাসার, সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তোফাজ্জল হোসেন, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান, উপজেলা যুবদলের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, পৌর যুবদলের সদস্যসচিব যোবায়ের আল মামুন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নিয়াজ মোর্শেদ, পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আলম সরকার, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি রেজুয়ান উল্লাহ, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসাম আহমেদ, সদস্যসচিব মুকিত আবদুল্লাহ ফারুক।

বিস্ফোরক আইনে করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আ. রহমান। তিনি বলেন, তদন্তে অবরোধের প্রথম দিন বিএনপির সমর্থকেরা মহাসড়কে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

অভিযোগ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান বলেন, ‘রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। অথচ অধিকার প্রয়োগের চেষ্টা করলেই পুলিশি আগ্রাসন শুরু হয়ে যায়। রাজপথেও পুলিশের হামলার শিকার হতে হয়, পরে করা হয় মামলা। এভাবে দেশ চলতে পারে না। শত বাধার মধ্যে আমরা রাজপথ ছাড়ব না।’

এর আগে ৩০ অক্টোবর ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে নৈরাজ্য ও নাশকতা সৃষ্টির অভিযোগে আরও একটি মামলা হয়। মামলাটি করেন ভৈরব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল আলম। ওই মামলায় বিএনপির ২৪ নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ রয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয় ৫০ থেকে ৬০ জনকে।

ওই মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক হানিফ মাহমুদ, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জাকারিয়া ফারুক। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।