খুলনায় অবরোধের তৃতীয় দিনেও যাত্রী-খরা কাটেনি, আজও মাঠে নেই বিএনপি

যাত্রীসংকটে ভুগেছেন গাড়িচালক ও শ্রমিকেরা। বৃহস্পতিবার সকালে খুলনার সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালে
ছবি: সাদ্দাম হোসেন

বিএনপির ডাকা দেশব্যাপী অবরোধ কর্মসূচির তৃতীয় দিনেও খুলনায় দূরপাল্লার বাস, অভ্যন্তরীণ রুটের বাস, ট্রেন ও লঞ্চ চলাচল করছে। গত দুই দিনের মতো যাত্রী-খরায় ভুগছে পরিবহনগুলো। অবরোধ সমর্থনে মাঠে নেই বিএনপির নেতা-কর্মীরা।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে খুলনা বিভাগের সবচেয়ে বড় বাস টার্মিনাল সোনাডাঙ্গা আন্তজেলা বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, টার্মিনাল থেকে বাস ছেড়ে যাচ্ছে তবে যাত্রী নেই বললেই চলে।

খুলনা-পাইকগাছা রুটের গাড়িচালক মো. পারভেজ বলেন, যাত্রী গত দুই দিনের মতো আজও কম। পাঁচ-সাতজন যাত্রী নিয়ে বাস ছাড়তে হচ্ছে। একই রুটের আরেকজন চালক তুহিন আলম বলেন, রাস্তার পরিস্থিতি খারাপ না, তবে যাত্রীদের মনে সম্ভবত আতঙ্ক থাকায় তাঁরা বের হচ্ছেন না।

রূপসা পরিবহন আগে কুষ্টিয়া পর্যন্ত যেত। প্রতি ৯ মিনিট পরপর গাড়িগুলো ছেড়ে যেত। তিন দিন ধরে এটি যশোর পর্যন্ত যাচ্ছে। ওই পরিবহনের একজন চালক মো. জাহাঙ্গীর বলেন, লোকজন নেই। আগে ঘণ্টায় ছয়টা করে গাড়ি ছেড়ে যেত। এখন একটি গাড়ি বোঝাই হতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে।

ঢাকাগামী পরিবহনগুলোতেও একই অবস্থা। সোনাডাঙ্গায় ইমাদ পরিবহনের ৩ নম্বর কাউন্টারের কাউন্টার মাস্টার হুমায়ুন কবীর প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের পরিবহনের ৩০-৩২টি গাড়ি প্রতিদিন খুলনা থেকে ঢাকা যায়। এখন ১২-১৩টির বেশি যাচ্ছে না। সূচি অনুযায়ী গাড়ি ছাড়া যাচ্ছে না। যাত্রী নেই। তবে আজ সন্ধ্যার পরের ট্রিপগুলোর জন্য ও আগামীকালের (শুক্রবার) জন্য বেশ ভালো পরিমাণ টিকিট অগ্রিম বুকিং হচ্ছে।’

নির্দিষ্ট সময়ে গাড়ি ছাড়া হলেও যাত্রীর সংকট দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে খুলনার সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালে

শুক্রবার ঢাকা যাওয়ার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ টিকিট বিক্রি হয়েছে জানিয়ে টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের সোনাডাঙ্গা কাউন্টারের কাউন্টার মাস্টার মো. রায়হান বলেন, কাল (শুক্রবার) থেকে গাড়িতে চাপ বেড়ে যাবে।

আজ সকালে খুলনা থেকে সব ট্রেনই সূচি অনুযায়ী ছেড়ে গেছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) খুলনার রকেট ঘাট থেকে নির্ধারিত একটি রুটে চলা দুটি লঞ্চও ঠিক সময়ে ছেড়ে গেছে।

এদিকে অবরোধের প্রথম দিনে খুলনা শহরে বিএনপির পক্ষ থেকে কয়েকটি ছোট-বড় মিছিল হয়েছিল। সেখান থেকে বিএনপির তিন কর্মীকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গতকাল বুধবার অবরোধের দ্বিতীয় দিনে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মাঠে দেখা যায়নি। আজ অবরোধের শেষ দিনেও মাঠে নেই বিএনপির নেতা-কর্মীরা। গত দুই দিনে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন মোড়ে উপস্থিত থাকতে দেখা গেলেও আজ তাঁদের দেখা যায়নি। সড়কে পুলিশের উপস্থিতি অন্য স্বাভাবিক সময়ের মতোই দেখা গেছে।

গতকাল রাত থেকে আজ সকাল পর্যন্ত খুলনা নগরের ছয়টি থানায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের আট নেতা-কর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে দাবি করেছেন বিএনপি নেতারা। খুলনা নগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও গণমাধ্যম শাখার মুখপাত্র মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, কেন্দ্রীয় ও খুলনার শীর্ষস্থানীয় সব নেতার বিরুদ্ধে নতুন করে গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছে। সেসব মামলায় গ্রেপ্তারও দেখানো হচ্ছে। নেতা-কর্মীদের বেশির ভাগই নিজের বাড়িতে থাকতে পারছেন না। তাই কৌশলগত কারণে আপাতত রাজপথে মিছিল করা যাচ্ছে না।