সুন্দরবনের ছায়া নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া চার মৌয়াল। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে বন বিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশনে
সুন্দরবনের ছায়া নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া চার মৌয়াল। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে বন বিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশনে

সুন্দরবনে কালবৈশাখীতে নিখোঁজ ৯ মৌয়ালের মধ্যে ৭ জন উদ্ধার

কালবৈশাখীতে দিগ্‌ভ্রান্ত হয়ে সুন্দরবনের গভীরে নিখোঁজ থাকা নয়জন মৌয়ালের মধ্যে সাতজনকে উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। গতকাল সোমবার গহিন অরণ্য থেকে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন থেকে তাঁদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বন বিভাগ জানায়, সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের অধীন হলদেবুনিয়া টহল ফাঁড়ির সদস্যরা সোমবার নিয়মিত টহলে বের হন। সকাল আটটার দিকে ছায়া নদীর তীরবর্তী এলাকায় বনের ভেতর থেকে কয়েকজনের ডাক শুনে তাঁরা এগিয়ে যান। সেখান থেকে চারজন মৌয়ালকে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া মৌয়ালেরা হলেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পশ্চিম বিড়ালাক্ষী গ্রামের রাশিদুল ইসলাম (৩৬), বুড়িগোয়ালিনী গ্রামের শুকুর আলী (৩৮), কাশিমাড়ি গ্রামের আবদুল লতিফ মোল্লা (৬৪) ও তৈবুর রহমান (২৩)।

রাশিদুল ইসলাম ও শুকুর আলী সরদার জানান, ১ এপ্রিল তাঁরা পাঁচজন বন বিভাগের পাস নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করেন। মধু সংগ্রহ শেষে ১০ এপ্রিল লোকালয়ে ফেরার পথে রায়মঙ্গল নদীর মোহনায় হঠাৎ কালবৈশাখীর কবলে পড়েন। এতে তাঁদের নৌকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রবল স্রোতে ভেসে ভারতের সীমান্তের দিকে চলে যায়। দলের সদস্য শওকত গাজীকে (৩৯) ভারতীয় বন বিভাগের সদস্যরা আটক করেন। সীমান্ত পরিস্থিতির কারণে তাঁরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। পরে চারজন দুই দিন পায়ে হেঁটে আবার একত্র হন। দেশে ফিরতে না পেরে একটি অস্থায়ী ভেলা তৈরি করে নদী পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশ অংশে প্রবেশ করেন।

সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমান জানান, একই সময়ে অপর একটি মৌয়াল দলের আট সদস্য ১ এপ্রিল সুন্দরবনে প্রবেশ করে। ৬ এপ্রিল রাতে কাঁচিকাটা এলাকায় আকস্মিক ঝড়ে তাঁদের নৌকা ডুবে যায়। এ সময় চারজন ভেসে গিয়ে পরদিন হলদেবুনিয়া টহল ফাঁড়িতে পৌঁছালে তাঁদের উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বাকি চারজন নিখোঁজ ছিলেন। পরবর্তী সময়ে গতকাল সোমবার রায়মঙ্গল সীমান্ত নদী এলাকা থেকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া তিন মৌয়াল হলেন শ্যামনগর উপজেলার ওলিউর রহমান, ইকরামুল কবির ও মিকাইল হোসেন। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন একই গ্রামের আকবর। উদ্ধার হওয়া মৌয়ালদের আজ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।