
রাঙামাটি থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান রুটে সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। এতে যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন।
সরেজমিন দেখা যায়, রাঙামাটি শহরের ফিশারিঘাট বাস টার্মিনালে বাসগুলো সারি করে দাঁড়িয়ে আছে। বাসচালক, চালকের সহকারীরা বেকার সময় পার করছেন। কেউ বাসের আশপাশে বসা, কেউ চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছেন। যাত্রীদের অনেকে বাস টার্মিনালে এসে ফিরে গেছেন গন্তব্য যেতে না পেরে।
কথা হয় যাত্রী মো. দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি চট্টগ্রামে যাওয়ার জন্য বাস টার্মিনালে আসি। এসে দেখি, বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। তাই বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।’
চট্টগ্রাম-রাঙামাটি বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সহসাধারণ সম্পাদক মো. ইউছুপ প্রথম আলোকে, আজ সকাল থেকে মালিক ও শ্রমিক সমিতির যৌথ উদ্যোগে ধর্মঘট চলছে। হঠাৎ করে নিয়ম না মেনে রাঙামাটি ঢাকা রোডে সৌদিয়া বাস চালু করার কারণে এমন ধর্মঘট ডাকা হয়েছে বলে জানান।
রাঙামাটি রিজার্ভ বাজারে অবস্থিত সৌদিয়া বাস কাউন্টারের ম্যানেজার মো. আরমান প্রথম আলোকে বলেন, গত ৩১ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম–রাঙামাটি মোটর মালিক সমিতির অনুমতি, ডিসি অফিস, বিআরটিএর অনুমতিসহ সব প্রক্রিয়া শেষ করে রাঙামাটি ঢাকা রোডে এসি ও নন–এসি দুটি সৌদিয়া বাস চালু করা হয়। এত দিন ভালোই চলছিল। হঠাৎ গতকাল রাউজান ও রাঙামাটি থেকে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মোটর মালিক সমিতির লোকজন এসে টিকিট বিক্রি বন্ধ রাখতে বলে। সৌদিয়া কাউন্টারের অফিসেও হামলা করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মোটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী আনিসুর জামান প্রথম আলোকে বলেন, চট্টগ্রাম-রাঙামাটি বাস মালিক সমিতির সঙ্গে সৌদিয়া পরিবহনের একটা মামলা ছিল। মামলায় তাদের সমিতির পক্ষে রায় দেওয়া হয়েছে। রায়ের সিদ্ধান্ত না মেনে রাঙামাটি থেকে ঢাকা রোডে এসি, নন-এসি দুটি বাস চালু করে সৌদিয়া পরিবহন। বেশ কয়েকবার তাদের বাস চলাচল বন্ধ রাখতে বলা হয়। তারা বাস সার্ভিস চালু রাখে।
এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রাঙামাটি জেলা শাখার সম্পাদক এম জিসান বখতেয়ার প্রথম আলোকে বলেন, বাস চলাচল বন্ধ রাখা যাত্রীদের জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়। এমন দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাস চলাচল বন্ধ রাখা, এটি কাম্য নয়। আধুনিক যাত্রীসেবা নিশ্চিতের জন্য সব ধরনের যান চলাচল করতে দেওয়া উচিত। নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠী, মালিক বা সমিতির যান চলাচল করবে, অন্য যানবাহন চলবে না—এমন জিম্মি করে রাখা ঠিক নয়। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও সড়ক বিভাগের কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।