
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘একটা দেশের সঙ্গে অন্য দেশের পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে আমরা দাবি আদায় করার চেষ্টা করব। আমরা যদি তাদের সঙ্গে সঠিকভাবে ডিপ্লোম্যাটিক আচরণ করতে পারি, তবে আমাদের প্রতি তাদের বিরূপ আচরণ কমে যাবে।’
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। আজ সোমবার সকালে ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তিস্তা নদীর সমস্যার সমাধান নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তিস্তা সমস্যার সমাধানে আমাদের কমিটমেন্ট আছে। তিস্তা, পদ্মা ও অন্যান্য অভিন্ন নদ-নদী নিয়ে আমরা ভারতের সঙ্গে আলোচনা করব এবং তাদের কাছ থেকে আমাদের ন্যায্য হিস্যা আদায় করব।’
সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রিয়াজের এক বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যারা সব সময় ফ্যাসিস্টের ভয়ে থাকে, নিজেরা কোনো কাজ করে না, বিদেশ থেকে বড় বড় কথা বলে—তাদের কাছে এটা মনে হতেই পারে। আমরা ফ্যাসিস্টকে তাড়াতে জানি, মারতে জানি, মার খেতেও জানি।’
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি আলী রীয়াজ বলেছেন যে ভবিষ্যতে যাঁরা এই দেশ পরিচালনা করবেন, তাঁরা যেন আর কখনোই ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এবারের গণভোট।
ভারতে ক্রিকেট বিশ্বকাপে না যাওয়া প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আগে আমি ক্রিকেট খেলতাম। এখন খেলি না, রাজনীতি করি। এই ক্রিকেটের সঙ্গে আন্তর্জাতিক রাজনীতি জড়িয়ে আছে। আমাদের দেশের সম্মান জড়িয়ে আছে। ভারত নিঃসন্দেহে আমাদের একজন ক্রিকেটারকে অপমান করেছে। এ বিষয়ে বোর্ডের যে সিদ্ধান্ত তার সঙ্গে আমরা একমত। কিন্তু একই সঙ্গে এটাও মনে করি, ছোটখাটো বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনার মধ্যেই সমাধান করা উত্তম।’
বিএনপির প্রার্থীরা নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ–সমর্থকদের ভোট টানার চেষ্টা করছেন—এ বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি মনে করি, এটা সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। আমরা জনগণের কাছে যাচ্ছি। বিএনপি পরীক্ষিত রাজনৈতিক দল। এ দেশে যা কিছু ভালো সবকিছুই বিএনপির অর্জন। একদলীয় গণতন্ত্র থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে যাওয়া, প্রেসিডেন্সি ফর্ম থেকে পার্লামেন্টারি ফর্মে আসা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা—সবই বিএনপি করেছে। সুতরাং আমরা মনে করি, বিএনপি নিঃসন্দেহে সেলফ সাফিশিয়েন্ট একটি রাজনৈতিক দল। অতীতে এককভাবে সরকারে ছিল, সরকার চালিয়েছে এবং সে সময় সবচেয়ে ভালো কাজগুলো বিএনপি করতে সক্ষম হয়েছে।’
এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনসারুল হক, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি চৌধুরী মাহেবুল্লাহ আবুনুর ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।