জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার হাটখোলা সীমান্ত। আজ সোমবার
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার হাটখোলা সীমান্ত। আজ সোমবার

জয়পুরহাট সীমান্তে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা বৃদ্ধকে সরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার হাটখোলা সীমান্তের ২৭৯ নম্বর প্রধান পিলারের ২৭ নম্বর সাব-পিলারসংলগ্ন শূন্যরেখায় ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) চেষ্টা করা সেই বৃদ্ধকে আজ সোমবার আর দেখা যায়নি।

স্থানীয় গ্রামবাসী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল রোববার দিনভর শূন্যরেখায় অবস্থান করানোর পর রাত ৯টা ৫ মিনিটের দিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়।

আজ দুপুরে হাটখোলা সীমান্ত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শূন্যরেখায় ওই বৃদ্ধ নেই। স্থানীয় লোকজন বলেন, গতকাল সকালে বিএসএফ ওই বৃদ্ধকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশ ইন করে। গ্রামবাসী তাঁকে আটকে রেখে বিজিবিকে খবর দেন। পরে গ্রামবাসীর সহায়তায় বিজিবি সদস্যরা বৃদ্ধকে পুশব্যাক করে ভারতীয় ভূখণ্ডের ভেতরে পাঠিয়ে দেন। এরপর বিএসএফ সদস্যরা দফায় দফায় বৃদ্ধকে আবারও বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে গ্রামবাসী ও বিজিবি সদস্যদের সতর্ক অবস্থানের কারণে তাঁদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

সন্ধ্যার পর সীমান্তের লাইট বন্ধ করে ভারতীয় কিছু লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে আবারও পুশ ইনের চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু গ্রামবাসী ও বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তাতে সফল হতে পারেনি বিএসএফ। পরে রাত ৯টার পর বিএসএফের সদস্যরা বৃদ্ধকে নিয়ে সেখান থেকে চলে যান।

বর্তমানে সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি শান্ত। স্থানীয় লোকজন বলেন, সীমান্তের ওপারে ভারতের জামালপুর গ্রামে তাঁদের আত্মীয়স্বজন আছেন। সেখানে মথুরাপুর বিএসএফ ক্যাম্প। জামালপুর গ্রামের একটি বিদ্যালয়ে বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষকে জড়ো করে রাখা হয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেন।

হাটখোলা গ্রামের বাসিন্দা আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, বিএসএফ সারা দিন চেষ্টা করেও বৃদ্ধকে আর পুশ ইন করতে পারেনি। সন্ধ্যার পর সীমান্তের লাইট বন্ধ করে আবারও চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু গ্রামবাসী ও বিজিবির সদস্যদের শক্ত অবস্থানের কারণে তারা সফল হয়নি। রাত ৯টার পর বিএসএফ বৃদ্ধকে গাড়িতে করে নিয়ে গেছে।

বিজিবি সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে সীমান্তে সতর্ক নজরদারি অব্যাহত আছে। পুশ ইনের যেকোনো চেষ্টা প্রতিহত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।