
রমজান উপলক্ষে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রির প্রথম দিনেই লাইনে ধাক্কাধাক্কি, হাতাহাতি ও ট্রাকের পেছনে দৌড়ে টিসিবির পণ্য কিনেছেন রাজশাহী নগরের ক্রেতারা। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে ট্রাকে করে পণ্য বিক্রি শুরু করা হয়। প্রতিদিন নগরের ১৫টি পয়েন্টে মোট ১৫টি ট্রাকে এসব পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে।
টিসিবি সূত্র জানায়, রমজান মাসজুড়ে চলবে এই কার্যক্রম। তবে বিক্রির প্রথম দিনই কয়েকটি পয়েন্টে বিশৃঙ্খলা দেখা গেছে। কোথাও লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে ধাক্কাধাক্কি, কোথাও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
এবার প্রতি ট্রাক থেকে একসঙ্গে ৪০০ জন সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য কিনতে পারছেন। গত বছর শুরুতে ১০টি পয়েন্টে ২০০ জন করে পণ্য বিক্রি করা হয়েছিল।
টিসিবি জানায়, প্রতিটি ট্রাক থেকে ৫৯০ টাকায় পাঁচ ধরনের পণ্যের প্যাকেজ বিক্রি করা হচ্ছে। এর মধ্যে আছে ২ লিটার ভোজ্য তেল, ২ কেজি মসুর ডাল, এক কেজি চিনি, এক কেজি ছোলা ও আধা কেজি খেজুর। প্যাকেজের সব পণ্য একসঙ্গে নিতে হচ্ছে।
আজ সকাল থেকেই নগরের বিভিন্ন পয়েন্টে টিসিবির ট্রাকের অপেক্ষা করছিলেন ক্রেতারা। কাদিরগঞ্জ এলাকায় পণ্য বিক্রি শুরু হলে লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে হট্টগোল তৈরি হয়। একপর্যায়ে দুই নারীর মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। পরে পুলিশ সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় লাইনের বাইরে পণ্য দেওয়ার অভিযোগও করেন কয়েকজন ক্রেতা।
এক শিশুসন্তানকে নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন এক নারী। তিনি বলেন, এক ঘণ্টা অপেক্ষা করে অনেক কষ্টে পণ্য পেয়েছেন। তেল, ডাল, চিনি, খেজুর পেয়েছেন অর্ধেক দামে।
বানু বেগম নামের আরেক নারী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা ঝগড়া করতে পারি না, কাজকাম ফেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকি। আর পিছ থেকে আইসে মাল নিয়া চলে যায়।’
নুর আলম নামের এক ব্যক্তি লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘লাইনের বাইরে থেকে ডিলার অন্যদের মাল দিচ্ছে। আমরা লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। আমরা পাসি না। এক লোক একবার নিয়ে যাচ্ছে, আবার আইসে লাইনে দাঁড়াচ্ছে।’
আজ দুপুরের দিকে সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট এলাকায় একটি ট্রাক স্থান পরিবর্তন করলে উত্তেজনা তৈরি হয়। এ সময় অনেকে ট্রাকের পেছনে দৌড় দেন। পরে অন্য স্থানে গিয়ে আবার পণ্য বিক্রি শুরু করা হয়।
সেখানে ধীরেন বাবু নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘ট্রাকের পেছন আর কত দৌড়ানো যায়। প্রথমে এখানে এসেছিল। পরে আবার আরেক জায়গায় গেল। আবার এখানে আসল। ঘুরতে ঘুরতে হাঁপানি উঠে গেছে। মানে কী বলব, ওই কুকুরের মতো দৌড়াতে দৌড়াতে এসেছি।’
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডিলার জানান, তাঁরা যেখানে পণ্য বিক্রি শুরু করেছিলেন, সেখানে যানজট তৈরি হয়েছিল। এ কারণে স্থান পরিবর্তন করেছেন।
টিসিবির রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক আতিকুর রহমান বলেন, কিছু জায়গায় লাইনে বিশৃঙ্খলা দেখা গেছে। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সিটি করপোরেশনসহ অন্যদের চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়েছেন। তাদের সহযোগিতা পেলে বিশৃঙ্খলা কিছুটা কমবে। মাঠপর্যায়ে তাঁদের লোকজনও তদারকি করছেন। তাঁদের কাছে পর্যাপ্ত পণ্য মজুত আছে।