পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সোমবার সকালে গাজীপুরে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সোমবার সকালে গাজীপুরে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে

ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের ডিজি নিয়োগ নিয়ে দুই পক্ষ মুখোমুখি, প্রতিষ্ঠানে তালা

গাজীপুরে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে (ব্রি) নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) নিয়োগ ঘিরে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। নিয়োগের পরপরই প্রতিষ্ঠানটির একাংশের বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন ডিজিকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ ও ‘দুর্নীতিবাজ’ আখ্যা দিয়ে নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভে নেমেছেন। পাল্টা অবস্থান নিয়েছে আরেকটি পক্ষ, তারা বলছে, নিয়োগটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় হয়েছে।

আজ সোমবার সকাল থেকে উভয় পক্ষই মহাপরিচালকের কার্যালয়ের সামনে ব্যানার ও লোকবল নিয়ে অবস্থান নেয় এবং পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেয়। বিক্ষোভরতদের একটি অংশ ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন কক্ষে তালা ঝুলিয়ে কর্মবিরতি পালন করে, ফলে গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী সমিতির নির্বাচিত সহসভাপতি এ বি এম আনোয়ার উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, প্রায় এক মাস ধরে ডিজির পদটি শূন্য ছিল। গতকাল রোববার যাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তিনি পূর্ববর্তী সরকারের আমলে সুবিধাভোগী ছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ওই সময়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন।

সমিতিটির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বলেন, ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ না থাকলেও নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির অতীত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে বসানো হলে গবেষণা কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। এই নিয়োগ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

অন্যদিকে নতুন ডিজি আমিনুল ইসলামের সমর্থনে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ডিজি না থাকায় প্রশাসনিক জট তৈরি হয়েছে, এমনকি বেতনও বিলম্বিত হয়েছে। তাঁরা দ্রুত নতুন ডিজির দায়িত্ব গ্রহণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতির সহসভাপতি আবদুল মান্নান বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে ডিজি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই তিনি দ্রুত দায়িত্ব নিন। কিন্তু সকালে এসে দেখি, একদল লোক অফিসগুলোতে তালা দিয়েছে। কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে বাংলাদেশ পুলিশের গাজীপুর সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মেহেদী হাসান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও উত্তেজনা বিরাজ করছে।