বিদেশে কৃষিশ্রমিকের বেশ চাহিদা রয়েছে জানিয়ে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, ‘এই সুযোগে যদি এ এলাকার মানুষ বিদেশে যেতে না পারে, আমি যদি এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী থাকি—আমার আক্ষেপ থাকবে।’
আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে মৌলভীবাজারের জুড়ীতে কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
তবে শুধু এমনি এমনি বিদেশে পাঠানো যাবে না উল্লেখ করে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে (জুড়ী) একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খোলার ব্যবস্থা নিতে বলেছি। এ ক্ষেত্রে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরেরও সহযোগিতা লাগবে। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভাষা শিক্ষা কোর্স চালু করতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যে আরবি, জাপানে জাপানিজ, ইউরোপে গেলে ইংরেজি ভাষা জানতে হবে। ভাষায় খুব পারদর্শী না হলেও ন্যূনতম মান বজায় রাখতে হবে। আর এ যোগ্যতা থাকলে আমাদের সামনে সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে।’
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুড়ীসহ দেশের ১১টি উপজেলায় ভার্চ্যুয়ালি কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে মঞ্চের সামনে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের ফলের প্রদর্শনী দেখে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘এখানে মিষ্টি লাউ (মিষ্টিকুমড়া), তরমুজ, লেবু, কলা দেখে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জিজ্ঞেস করলাম, এগুলো কোথাকার। তিনি (সংসদ সদস্য) বললেন, এই এলাকার। আমি বললাম, আরও বেশি করে আপনারা উৎপাদন বাড়ান। পুরো সিলেট বিভাগের মার্কেটে (বাজার) যেন এসব পণ্য পাওয়া যায়। এসব পণ্য বিদেশেও রপ্তানি করা যাবে। বিশ্বদরবারে জুড়ী পরিচিত হয়ে উঠবে। তাতে কৃষকেরাও পণ্যের যথাযথ মূল্য পাবেন। এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।’
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধকালীন আটকে পড়া ও দেশে ফিরতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে আনা হচ্ছে। আর যেসব আদম ব্যবসায়ী অবৈধ পন্থায় বিদেশে মানুষ পাঠান, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁদের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে বলা হয়েছে। অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ পন্থায় বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে মানুষকেও সচেতন থাকতে হবে।
দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের বশির উল্লাহ উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল। স্বাগত বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেটের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন স্থানীয় মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ, মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, পুলিশের সিলেট রেঞ্জের আয়োজন মৌলভীবাজার ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান ও মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবদুর রহিম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপজেলার ফুলতলা ব্লকের কয়েকজন কিষান–কিষানির হাতে কৃষক কার্ড ও একটি করে গাছের চারা তুলে দেন।
কৃষি বিভাগ জানায়, ফুলতলা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ৬৫০ জন কৃষক ও ১৭১ জন কিষানি কৃষক কার্ড পান। এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা নির্ধারিত দোকান থেকে ন্যায্যমূল্যে বিভিন্ন ধরনের কৃষি উপকরণ কিনতে পারবেন। এ ছাড়া ভূমিহীন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা কার্ডের মাধ্যমে কৃষি উপকরণ কিনতে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে অর্থসহায়তা পাবেন।