কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দুই এলাকার বাসিন্দাদের সংঘর্ষের ঘটনার দুই দিন পর মামলা হয়েছে। থানা ভবন ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে আজ শনিবার সকালে ভৈরব রেলওয়ে থানায় মামলাটি করা হয়।
মামলার বাদী ভৈরব রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আফজাল হোসেন। এতে দেড় শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হলেও তাঁদের সবার পরিচয় অজ্ঞাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। এ ছাড়া সংঘর্ষে জড়িত দুই পক্ষের কেউ এখন পর্যন্ত পৃথক কোনো অভিযোগ দেয়নি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ভৈরব পৌর শহরের জগন্নাথপুর ও পঞ্চবটি এলাকা রেলস্টেশন–সংলগ্ন। প্ল্যাটফর্মের ভেতরে ও বাইরের শতাধিক দোকানের বেশির ভাগই ওই দুই এলাকার লোকজনের নিয়ন্ত্রণে। এক সপ্তাহ আগে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই এলাকার কয়েকজন যুবকের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে।
এর জেরে গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে দুই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া ওই সংঘর্ষে ছয় পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণকক্ষ, রেলওয়ে থানা এবং প্ল্যাটফর্মের ভেতরের কয়েকটি দোকান। বিশেষ করে চারটি আন্তনগর ট্রেন ও একাধিক মেইল ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে দীর্ঘ সময় আটকে ছিল। গভীর রাত পর্যন্ত ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক না হওয়ায় যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন।
সংঘর্ষে প্ল্যাটফর্মের বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নিয়ন্ত্রণকক্ষের দরজা ও কাচ ভেঙে যায়। রেলওয়ে থানার গাড়ি ও ভবনের জানালার কাচও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। প্রথমে রেলওয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে পরে থানা-পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাঈদ আহমেদ বলেন, সংঘর্ষে থানা ভবন ও পুলিশের গাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ কারণে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে। আসামিদের পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে।
গ্রেপ্তার না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।’
রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, সংঘর্ষে রেলওয়েরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় রেলওয়ের পক্ষ থেকেও পৃথক একটি মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।