রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে অনশন

পরীক্ষার ফল পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে অনশন করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থীরা। আজ সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে
ছবি: প্রথম আলো

পরীক্ষার ফলাফল পুনর্মূল্যায়ন করে সংশোধনের দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা অনশন করেছেন। দীর্ঘ আড়াই মাসে ফলাফল সংশোধন না করায় আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে অনশনে বসেন। অবশ্য রাতে উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠকের পর শিক্ষার্থীরা অনশন স্থগিত করেছেন।

আজ সন্ধ্যা ৭টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার অনশনরত পাঁচ শিক্ষার্থীর সঙ্গে আলোচনায় বসেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে আলোচনা শেষে উপাচার্য বেরিয়ে আসেন। পরে তিনি বাইরে এসে সব শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যৌক্তিক আন্দোলন করেছেন। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি করা হবে আগামীকাল। আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হবে কমিটিকে। প্রতিবেদনে শিক্ষার্থীদের প্রতি অন্যায় কিছু হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কথা বলার পর উপাচার্য শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙান। পরে শিক্ষার্থীরা তাঁর আশ্বাসে ফিরে যান।

এর আগে আজ দিনভর অনশন চলাকালে দফায় দফায় উর্দু বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে এলেও শিক্ষার্থীরা অনশন থেকে ওঠেননি। বিকেলে ও সন্ধ্যায় কথা-কাটাকাটিও হয়।

এদিকে অনশনে তিন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁদের অ্যাম্বুলেন্সে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। তাঁরা হলেন ফারজানা লুনা, নুসরাত প্রিয়া ও মনিজা আক্তার।

উর্দু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ৩৫ জন নিয়মিত ও ৩ জন অনিয়মিত শিক্ষার্থী রয়েছেন। সবাই এপ্রিলে প্রথম বর্ষের প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। দ্বিতীয় সেমিস্টার পরীক্ষার ৩৮ জনের ফলাফল প্রকাশিত হয় ২৫ আগস্ট। এর মধ্যে আটজন একাধিক বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হয়েছেন। ১৪ জন একটি বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হয়েছেন। ওই দিন প্রকাশিত ফলাফলে ক্ষুব্ধ হয়ে বিভাগের অফিসকক্ষে ও সভাপতির কক্ষে তালা ঝুলিয়ে বিভাগ বন্ধ ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা। পরে আশ্বাসে তাঁরা আন্দোলন থেকে সরে আসেন। তবে দীর্ঘ আড়াই মাসে ফলাফল সংশোধন না করায় আজ আবারও তাঁরা অনশনে বসেন।

অনশনস্থলে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাঁরা প্রথম সেমিস্টারে সবাই ভালো ফল করেছেন। অনেকের ফল সিজিপিএ ৩ দশমিক ৫০-এর ওপরে। তাঁদের অনেকেই দ্বিতীয় সেমিস্টারে এসে অনুত্তীর্ণ হয়েছেন। ভাইভা বোর্ডে মৌখিক পরীক্ষায় ৩৮ জনের মধ্যে একজনকে শুধু ‘এ’ মাইনাস দেওয়া হয়েছে। অন্যদের ‘সি’ প্লাস বা এর নিচে দেওয়া হয়েছে।

অনশনরত শিক্ষার্ধীদের সঙ্গে শিক্ষকদের বাগবিতণ্ডাও হয়। সোমবার বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে

সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. সুলতান-উল-ইসলাম, ছাত্র-উপদেষ্টা তারেক নূর, জনসংযোগ দপ্তরের কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার পাণ্ডে, প্রক্টরিয়াল বডিসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকেরা আসেন। এ সময় সহ-উপাচার্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আগামীকাল একটি তদন্ত কমিটি হবে। কমিটি দেখবে অন্যায় হয়েছে কি না।’ এ সময় শিক্ষার্থীরা বলেন, তাঁরা অনশনরত অবস্থাতেই বিষয়টির সমাধান চান। এ সময় কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন।

শিক্ষার্থী বায়জিদ হোসেন বলেন, সন্ধ্যায় তাঁদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য এসেছিলেন। তাঁদের দাবি পূরণ না করলে তাঁরা উঠবেন না। এ সময় তাঁদের গায়ে হাত তোলা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রদীপ কুমার পাণ্ডে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অনশনস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন। কমিটি সাত দিনের মধ্যেই প্রতিবেদন দেবে। কিন্তু ওই শিক্ষার্থীরা তা না মেনে উল্টো শিক্ষকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। পরে উপাচার্যের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সভা বসে।