
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১টি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ঐক্যের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। যদিও ঐক্যের এই উদ্যোগের সঙ্গে শুরু থেকে যুক্ত থাকা ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত সমঝোতা হয়নি। ফলে এখন পর্যন্ত নির্বাচনী এই সমঝোতা সীমাবদ্ধ রয়েছে ১০ দলের মধ্যেই। সমঝোতা অনুযায়ী চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ৯টিতে লড়বেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে সংবাদ সম্মেলন করে ‘১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের’ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়। এই ঘোষণা মঞ্চে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের জন্য চেয়ার রাখা হলেও তিনি বা তাঁর দলের কেউ সেখানে যোগ দেননি। তবে দলটির জন্য ৪৭টি আসন ফাঁকা রেখে বাকি ২৫৩ আসেন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
ঘোষিত নির্বাচনী সমঝোতা অনুযায়ী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ১৭৯ আসনে প্রার্থী দেবে। বাকি আসনগুলোর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি, খেলাফত মজলিস ১০টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৭টি, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ৩টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ও নেজামে ইসলাম পার্টি ২টি করে আসনে প্রার্থী দেবে। কিছু আসন উন্মুক্ত থাকবে। এই নির্বাচনী মোর্চার অন্য দুটি দল বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) কোনো প্রার্থী দেবে না। তবে দল দুটি নির্বাচনী ঐক্যে শরিক থাকছে।
জামায়াতে ইসলামী সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৯টি জামায়াত নিজেদের কাছে রেখেছে। এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টিকে দেওয়া হয়েছে ১টি আসন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১টি, খেলাফত মজলিসকে ১টি, এলডিপি ২টি ও নেজামে ইসলামী পার্টিকে ১টি আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের জন্য ১টি আসন উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সমঝোতার পর এসব আসনে একজন প্রার্থী রেখে জোটভুক্ত অন্য দলের প্রার্থীরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবেন।
নেতা-কর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে গতকালের সংবাদ সম্মেলনে ২৫৩ আসনে প্রার্থী ঠিক হয়েছে। সে অনুযায়ী, জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে ছাইফুর রহমান, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) মুহাম্মদ নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) মুহাম্মদ আলা উদ্দীন, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) মো. আনোয়ার ছিদ্দিক, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) মো. শাহাজাহান মঞ্জু, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) এ টি এম রেজাউল করিম, চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর-ডবলমুরিং) মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালী, চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) শাহজাহান চৌধুরী ও চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম থাকছেন।
চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. আবু নাছের। আসনটিতে জোটের হয়ে এনসিপি প্রার্থী লড়বেন। সেখানে এনসিপির প্রার্থী মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ। চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে জামায়াতের প্রার্থী এ কে এম ফজলুল হকের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এই আসনে নেজামে ইসলামী পার্টির প্রার্থী মো. নেজাম উদ্দীন জোটের হয়ে লড়বেন।
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) ও চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসন দুটি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিকে (এলডিপি) ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম-১২ আসনে এম. এয়াকুব আলী এবং চট্টগ্রাম-১৪ আসনে এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদের ছেলে ও দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক ওমর ফারুক জোটের হয়ে লড়বেন। চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) আসনে খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ ইমরান প্রার্থী হিসেবে থাকছেন।
চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ শফিউল আলম। নগরের এই আসনটি ইসলামী আন্দোলনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলন জোটের শরিক না হলে সেখানে জামায়াতের প্রার্থীই জোটের হয়ে লড়বেন বলে জানিয়েছেন জামায়াতের এক নেতা। নাম প্রকাশ না করা শর্তে তিনি বলেন, ‘ইসলামী আন্দোলন তাঁদের সিদ্ধান্ত জানানোর পর পরিবর্তন হতে পারে। তাই কিছু আসন উন্মুক্ত আছে।’
জানতে চাইলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটি খসড়া তালিকা। আজ-কালের মধ্যেই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হবে।’
জামায়াতের দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে পাওয়া তালিকা অনুযায়ী, দেশের পার্বত্য তিন সংসদীয় আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা থাকছেন না। বান্দরবান আসনে এনসিপির প্রার্থী আবু সাঈদ মো. সূজা উদ্দীন, রাঙামাটি আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক জোটের হয়ে লড়বেন। খাগড়াছড়ি আসনটি ইসলামী আন্দোলনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
জামায়াতের প্রার্থী থাকছে ফেনী-১ (ছাগলনাইয়া-ফুলগাজী-পরশুরাম), ফেনী-৩ (দাগনভূঞা ও সোনাগাজী), নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ), নোয়াখালী-৪ (সদর ও সুবর্ণচর), নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট), লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদর আংশিক), লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর একাংশ), কক্সবাজার-১ (চকরিয়া ও পেকুয়া), কক্সবাজার-২ (কুতুবদিয়া ও মহেশখালী), কক্সবাজার-৩ (সদর, ঈদগাঁও ও রামু), কক্সবাজার-৪ (উখিয়া ও টেকনাফ) আসনে।
ইসলামী আন্দোলনের জন্য নোয়াখালী-১ (চাটখিল ও সোনাইমুড়ী আংশিক) ও লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসন উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। নোয়াখালী-২ (সেনবাগ ও সোনাইমুড়ী আংশিক), নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) ও লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে জোটের প্রার্থী হবেন এনসিপির প্রার্থীরা। এ ছাড়া ফেনী-২ (সদর) আসনটি আমার বাংলাদেশ পার্টিকে (এবি পার্টি) ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে প্রার্থী এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।