নরসিংদীর রায়পুরায় দোকানে ঢুকে রফিকুল ইসলাম মুন্সি নামের এক ব্যবসায়ীকে গলা কেটে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ছবিটি আজ সকালে ঘটনাস্থলের
নরসিংদীর রায়পুরায় দোকানে ঢুকে রফিকুল ইসলাম মুন্সি নামের এক ব্যবসায়ীকে গলা কেটে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ছবিটি আজ সকালে ঘটনাস্থলের

নরসিংদীতে দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে রফিকুল ইসলাম মুন্সি (৪৫) নামের এক ব্যবসায়ীকে গলা কেটে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শনিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের হাঁটুভাঙ্গা রেলগেট–সংলগ্ন ভাই ভাই স্টোরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। কে বা কারা, কী কারণে তাঁকে হত্যা করেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।

নিহত রফিকুল ইসলাম মুন্সি ওই এলাকার সাহারাজ খলিফার ছেলে। দোকানটিতে টাইলস, স্যানিটারি ও হার্ডওয়্যার পণ্যের ব্যবসা করতেন তিনি। ওই দোকান থেকে তাঁর বাড়ির দূরত্ব পাঁচ মিনিটের হাঁটাপথ।

নিহত রফিকুলের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, সাধারণত রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যেই দোকান বন্ধ করে বাড়িতে ফিরতেন রফিকুল। গতকাল রাত ১০টার পরও বাড়িতে ফিরছিলেন না তিনি। মুঠোফোনে পরপর কল করেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা যাচ্ছিল না। তাঁরা দোকানে গিয়ে দেখেন, শাটার নামানো কিন্তু তালাবদ্ধ ছিল না। পরে ভেতরে ঢুকেই রফিকুলের রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। এ সময় তাঁদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে নিহত রফিকুলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত রফিকুল ইসলাম মুন্সি

পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১০টায় ঘটনাস্থল থেকে নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর লাশ নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। তাঁর গলাসহ শরীরে একাধিক স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। ছোপ ছোপ রক্তে ভেসে যায় ঘটনাস্থল। আজ রোববার সকাল থেকে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, হত্যাকাণ্ডের সময় আশপাশের সব দোকান বন্ধ ছিল, শুধু তাঁর দোকানটাই খোলা ছিল। ফলে পুরো এলাকাই ছিল নীরব। এ ছাড়া ওই সময় বিদ্যুৎ ছিল না। তাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি কেউই টের পাননি।

রায়পুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রবীর কুমার ঘোষ বলেন, ঠিক কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বা কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। দ্রুতই জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।