মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায় সালিসে মারধরে এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। গতকাল বুধবার উপজেলার চরবাংলাবাজার এলাকায় তাঁকে মারধর করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার সকাল আটটার দিকে ঢাকার ডেমরার কোনাপাড়া এলাকায় অসুস্থ অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহত ব্যক্তির নাম মনির মোল্লা (৭০)। তিনি উপজেলার চরবাংলাবাজার গ্রামের প্রয়াত লতি মোল্লার ছেলে। মনির মোল্লা ও তন্দ্রি বেগম দম্পতির তিন ছেলে। ছেলেরা কাজের সুবাদে ঢাকায় থাকেন। গ্রামের বাড়িতে মনির মোল্লা ও তাঁর স্ত্রী থাকতেন।
নিহত ব্যক্তির স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকাল ১০টার দিকে মনির মোল্লা ও তাঁর স্ত্রী তন্দ্রি বেগমের মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য তাঁরা একই এলাকার তন্দ্রি বেগমের খালাতো ভাই নিজাম মিজির (৫০) বাড়িতে যান। সালিসের একপর্যায়ে মনির মোল্লার সঙ্গে নিজাম মিজির কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। পরে নিজাম মিজি ও তাঁর এক সহযোগী মনির মোল্লাকে কিল-ঘুষি মারেন। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে তাঁকে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মনির মোল্লার চাচাতো ভাই মহসিন মোল্লা প্রথম আলোকে বলেন, ভাই-ভাবি ঝগড়া মীমাংসার জন্য নিজাম মিজির দ্বারস্থ হয়েছিল। অথচ নিজামরা বিচারের নামে মনির মোল্লাকে মারধর করল; তাঁর অন্ডকোষ চেপে ধরা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত মনির মোল্লা মারা গেল। বুধবার যখন তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল, তাঁর অবস্থা খুব খারাপ ছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অনাস্থা দিয়ে সেখান থেকে তাঁকে ছেড়ে দেয়। আজ সকালে মনির মোল্লা তাঁর ছেলের বাসায় মারা গিয়েছে।
মহসিন মোল্লা আজ বেলা তিনটার দিকে জানান, মনির মোল্লার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে নিজাম মিজির বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন। তাঁদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।