সাভারের আশুলিয়া

সড়কের পরতে পরতে ভোগান্তি

সড়কটি পাড়ি দিতে ১৫ থেকে ২০ মিনিট লাগার কথা। যানজট ও খানাখন্দের কারণে লাগছে এক ঘণ্টা।

বাইপাইল থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত সড়কে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলেই সড়কে পানি জমে থাকে। সম্প্রতি ইউনিক এলাকায়
 প্রথম আলো

সড়কজুড়ে খানাখন্দ। বৃষ্টি হলেই এসব খানাখন্দে পানি জমে। সড়কের বেশ কয়েকটি স্থানে বাস দাঁড় করিয়ে রেখে যাত্রী ওঠানো ও নামানো হয়। যত্রতত্র করা হয় গাড়ি পার্কিং। এসব কারণে এ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাচ্ছে ৩০ হাজার মানুষ। এই চিত্র সাভারের আশুলিয়া থানার বাইপাইল থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটারের। যানবাহন চলাচলে বিশৃঙ্খলা ও খানাখন্দের কারণে ১৫–২০ মিনিটের সড়ক পাড়ি দিতে সময় লাগছে ১ ঘণ্টা।

এ সড়ক দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করেন ব্যাংক কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান। এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন তিনি। এ বিষয়ে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘বাইপাইল থেকে আশুলিয়ায় যেতে একটু পরপরই যানজটে পড়তে হয়। সড়কের ইউনিক এলাকা থেকে জামগড়া বাজার পর্যন্ত ১৫ মিনিটের পথ পাড়ি দিতেই ঘণ্টাখানেক সময় লেগে যায়। বৃষ্টি হলে তো বলাই মুশকিল কখন গন্তব্যে পৌঁছাব।’

একটু বৃষ্টি হলেই ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়। যানজট তো সব সময় লেগেই থাকে। পানি জমলে যে হেঁটে যাওয়ারও উপায় থাকে না
রহিম মিয়া, মুদিদোকানি, ইউনিক এলাকা

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সড়ক ঘেঁষে রয়েছে অর্ধশতাধিক ছোট-বড় শিল্পকারখানা। রয়েছে হাসপাতাল, বাজার, ব্যাংক, বিপণিবিতান ও বিনোদনকেন্দ্র। ব্যস্ত এই সড়ক খানাখন্দে ভরা। বৃষ্টি হলে সড়কের জামগড়া, জিরাব ও ইউনিক এলাকায় জমে পানি। এসব কারণে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে এ সড়ক ব্যবহারকারীদের।

গত সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, বাইপাইল মোড়ে আশুলিয়া হয়ে ঢাকার আবদুল্লাহপুর, উত্তরাসহ বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাস, ট্রাক, লেগুনাসহ বিভিন্ন পরিবহন জটলা করে সড়কের ওপর দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। ইঞ্জিনচালিত রিকশাগুলো এলোমেলোভাবে সড়কে চলাচল করছে। ট্রাফিক পুলিশের নিষেধাজ্ঞা মানছে না কেউই। যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং করে রাখায় কিছু দূর যাওয়ার পরই যানজট দেখা দিচ্ছে। বাইপাইল থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত এভাবেই চলতে হয়। যানজট না থাকলে এই সড়ক পাড়ি দিতে লাগে ১৫–২০ মিনিট।

সড়কের কয়েকটি স্থানে এরই মধ্যে পিচঢালাই উঠে গেছে। এর মধ্যে জামগড়া ও জিরাব এলাকায় বিছানো হয়েছে ইট। বৃষ্টি হলে সড়কের এই দুই অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। এ ছাড়া সড়কের মাঝামাঝি ইউনিক এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জমে হাঁটুপানি। স্থানীয় মুদিদোকানি রহিম মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘একটু বৃষ্টি হলেই ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়। যানজট তো সব সময় লেগেই থাকে। পানি জমলে যে হেঁটে যাওয়ারও উপায় থাকে না।’

সড়কের নরসিংপুর এলাকায় একটিমাত্র পদচারী–সেতু। ওই এলাকায় সড়কের পাশে রয়েছে অনেক শিল্পকারখানা, বাজার, বিপণিবিতান, হাসপাতাল, বিনোদনকেন্দ্র। এসব স্থানে যেতে বেশির ভাগ মানুষ রাস্তা পার হয় এ সড়কে চলাচলকারী পরিবহনগুলোকে থামিয়ে। এতে এসব এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। জিরাব এলাকায় সড়ক পার হচ্ছিলেন পোশাক কারখানার কর্মী সোহেল রানা। তিনি বলেন, ‘অফিসে যাওয়া ও ফেরার সময় সবারই তাড়া থাকে। সবাই তখন হাত তুইলা সড়ক পার হই। মাঝেমাঝে অনেকে গাড়ির ধাক্কাও খায়।’

এই সড়কে বাস চালানো খুবই বিরক্তিকর বলে জানালেন একাধিক বাসচালক। তাঁদের দাবি, যানজটের কারণে আর এবড়োখেবড়ো সড়কে ঝাঁকুনিতে যাত্রীদের গালি ও কটু কথা শুনতে হয়। আলী নূর পরিবহনের বাসচালক সুমন আলী বলেন, ‘একবার এ পথে চলার পর দ্বিতীয়বার আসতে মন চায় না। একটু বৃষ্টি হইলে সড়ক ডুইবা যায়। ঝাঁকুনিতে নিজের শরীরই ব্যথা হয়ে যায়।’

সড়কটি এখন ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের অধীন। এ কারণে সড়কে প্রায়ই খোঁড়াখুঁড়ির কাজ চলে। এ কারণেও ভোগান্তি পোহায় বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা।

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের পরিচালক শাহাবুদ্দিন খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। আগামী মাস থেকে পুরোদমে কাজ শুরু হবে। আপতত গাড়ি চলাচলের সুবিধার্থে সড়কটি মেরামত করে দেওয়া হবে। এরপর গাড়ি চলাচলের জন্য চার লেনের সড়ক তৈরি করা হবে। এরপর উড়ালসড়কের কাজ শুরু করব। সঙ্গে ড্রেন ও ফুটপাত থাকবে। এ ছাড়া আপাতত চারটি শ্যালো মেশিন দিয়ে সড়কে পানি জমলে তা সরিয়ে ফেলা হচ্ছে।’

প্রতিদিন সড়কটিতে ৩০ হাজারের বেশি লোক চলাচল করে জানিয়ে সাভার ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক আবদুস সালাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ সড়কের বিভিন্ন স্থানে চারটি ট্রাফিক পয়েন্ট রয়েছে। লোকবলস্বল্পতার কারণে এর বাইরে একটি বিশাল এলাকায় আমাদের লোক রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বিভিন্ন সংযোগ সড়কের স্থানগুলোতেই আমাদের ব্যস্ত থাকতে হয়। চালক ও সড়কে চলাচলকারী ব্যক্তিরা সচেতন না হলে যানজট নিয়ন্ত্রণ দুরূহ হয়ে পড়বে।’