
রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী জোট সমর্থিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আখতার হোসেন বিজয়ী হয়েছেন। শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে আখতার পেয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট। আর জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু নাসের শাহ মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৬৬৪ ভোট।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে আখতার হোসেনকে বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. এনামুল আহসান । ৫ লাখ ৯ হাজার ৯০৬ ভোটারের এই আসনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ১৬৪। ভোটের শতকরা হার ছিল ৬৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
জীবনে প্রথমবার জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেই জয়ের দেখা পেলেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় আখতার হোসেন বলেন, নির্বাচনের জন্য তাঁর তেমন আর্থিক প্রস্তুতি ছিল না। তাঁর ব্যাংক হিসাব, বিকাশ ও নগদে সারা দেশের মানুষ ২৭ লাখ টাকার মতো অনুদান দিয়েছেন। রংপুরের কাউনিয়া–পীরগাছার এমন মানুষও আছেন, যাঁরা বিভিন্ন সময় ১০ টাকা থেকে ৫০০, ১ হাজার, ২০ হাজার, ১ লাখ টাকা পর্যন্ত দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এত মানুষ পরিশ্রম করেছেন, যাঁরা আহত হয়েছেন, যাঁদের চড়–থাপ্পড় দেওয়া হয়েছে, প্রত্যেকটা মানুষ যাঁরা দিনরাত খেটে পরিশ্রম করেছেন, একেবারে শিশু থেকে মুরব্বি—সবাই যে পরিশ্রম করেছেন, আমার তাঁদের একেকজন করে ঋণ পরিশোধ করা প্রয়োজন। এটাই আমার কর্তব্য হওয়া উচিত।’
সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আখতার হোসেন বলেন, ‘এই বাংলাদেশের জন্য, এই এলাকার জন্য এমন বড় বড় কাজ করার সুযোগ আল্লাহ যেন আমাকে দেন, যার মধ্য দিয়ে সবার ঋণ একেবারে শোধ করার ব্যবস্থা হয়। আমি সবার কাছে দোয়া চাই। যেন আমি আমার দায়িত্বটা সঠিকভাবে পালন করতে পারি। আমি যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সেগুলো যেন পালন করতে পারি। আমরা নতুন একটা কাউনিয়া-পীরগাছা করতে চাই। আমরা নতুন একটা বাংলাদেশ করতে চাই।’