ফরিদগঞ্জের রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ধানের শীষ প্রতীকের পরাজিত প্রার্থী হারুনুর রশিদ
ফরিদগঞ্জের রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ধানের শীষ প্রতীকের পরাজিত প্রার্থী হারুনুর রশিদ

চাঁদপুর-৪ আসন

কারচুপির অভিযোগ এনে ভোট পুনর্গণনার দাবি বিএনপি প্রার্থী হারুনুর রশিদের

​চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে কারচুপি ও জাল ভোটের অভিযোগ এনে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হারুনুর রশিদ। গতকাল শনিবার বিকেলে ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।

এ সময় হারুনুর রশিদ অভিযোগ করেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে প্রশাসনের একাংশের সহায়তায় নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করা হয়েছে। তিনি জানান, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

লিখিত বক্তব্যে সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ফরিদগঞ্জে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট হবে বলে আমি আশাবাদী ছিলাম। সকালে আমি সপরিবার কাউনিয়া শহীদ হাবিব উল্লাহ কেন্দ্রে ভোট দিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শনে যাই। শুরুতে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দেখেছিলাম, কিন্তু দুপুরের পর থেকেই দৃশ্যপট বদলে যেতে থাকে।’

হারুনুর রশিদ জানান, দুপুরের পর শোল্লা, ঘড়িয়ানা, মুন্সীরহাটসহ বেশ কিছু কেন্দ্র থেকে ধানের শীষের এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া বড়গাঁও উচ্চবিদ্যালয়, গাজীপুর আহমদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, পশ্চিম ভাওয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাইকপাড়া বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্তত আটটি কেন্দ্রে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকেরা কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট দিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে হারুনুর রশিদ বলেন, ‘একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নিরপেক্ষ তদন্ত দল গঠন করুন। প্রতিটি কেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলেই সত্য বেরিয়ে আসবে। অধিকাংশ কেন্দ্রে ধানের শীষ এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও বিশেষ কয়েকটি কেন্দ্রে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে যে অস্বাভাবিক ভোট দেখানো হয়েছে, তা কারচুপি ছাড়া সম্ভব নয়।’

নির্বাচনের পর কর্মী–সমর্থকদের ওপর হামলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন হারুনুর রশিদ বলেন, ‘আমার এক কর্মীর তিনটি দাঁত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এমনকি এক কর্মীকে বাড়িতে না পেয়ে তার শিশুসন্তানের ওপরও হামলা চালানো হয়েছে। অনেক নেতা–কর্মীর ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হচ্ছে।’

এই আসনে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য চিংড়ি মাছ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ হান্নান ৭৪ হাজার ১৭৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী হারুনুর রশিদ পেয়েছেন ৬৮ হাজার ২৪৪টি ভোট।