ইন্দুরকানি থেকে হেঁটে ঢাকায় শিক্ষক জাহিদুল, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম
ছবি: সংগৃহীত

পিরোজপুরের ইন্দুরকানি থেকে হেঁটে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছেছেন প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম। ইন্দুরকানি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়সহ দেশের সব প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় এমপিওভুক্ত করার দাবি তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আজ রোববার দুপুরে কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের কাছে আবেদন করেছেন জাহিদুলসহ ছয় শিক্ষক।

ডান পায়ে সমস্যার কারণে পা টেনে হাঁটেন জাহিদুল ইসলাম। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে তিনি ১৩ অক্টোবর ইন্দুরকানি উপজেলার প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় থেকে পদযাত্রা শুরু করেছিলেন। জাহিদুলের সঙ্গে ছিলেন তাঁর সহযোগী আরিফুল ইসলাম। এরপর পথে পথে তাঁর সঙ্গে যোগ দেন খুলনার আলো ফুটবেই সালেহীন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসাইন ফেরদৌস ও শিক্ষক মিলাদুন শেখ, কুষ্টিয়ার জনসেবা প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেরেবুল ইসলাম এবং রত্নাহেরা পারভেজ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক।

ছয়জনের দলটি গত বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে পৌঁছে কিছু সময় অবস্থান করে। এরপর রোববার তাঁরা বিশেষ শিক্ষা নীতিমালার আলোকে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী অনলাইনে আবেদন করা সব প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের জন্য আবেদন করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে শিক্ষক দলের সদস্যরা

জাহিদুল ইসলাম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, সহযোগী আরিফুল ইসলামকে নিয়ে তিনি ইন্দুরকানি থেকে পিরোজপুর হয়ে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় যান। সেখান থেকে পদ্মা সেতুতে যান। হেঁটে সেতু পার হওয়ার অনুমতি না থাকায় সেতুর দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা তাঁদের বাসে তুলে দেন। সেতু পার হয়ে বাস থেকে নেমে হেঁটে ঢাকায় আসেন। গোপালগঞ্জে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন খুলনার হোসাইন ফেরদৌস ও মিলাদুন শেখ। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজু ভাস্কর্যে যুক্ত হন সেরেবুল ইসলাম ও আবদুর রাজ্জাক। তাঁরা সবাই প্রতিবন্ধী।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, রাজু ভাস্কর্য থেকে হেঁটে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে যান। ওই দিন সেখানকার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে রোববার দুপুরে আবারও যান। এরপর সেখানকার কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদনটি আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেন। আবেদনের ব্যাপারে তাঁরা পরে জানাতে চেয়েছেন।

দাবির বিষয়ে জাহিদুল ইসলাম বলেন, সারা দেশে সহস্রাধিক প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় রয়েছে। সেখানে তাঁদের মতো অনেক শিক্ষিত প্রতিবন্ধী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। সারা দেশে শিক্ষক-কর্মচারীরা কোনো ধরনের বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। তাই এই বিদ্যালয়গুলো দ্রুত এমপিওভুক্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।