দুজনের চার হাত একসঙ্গে গাছে বেঁধে রাখা হয়েছে। বুধবার সকালে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুরে
দুজনের চার হাত একসঙ্গে গাছে বেঁধে রাখা হয়েছে। বুধবার সকালে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুরে

পাবনায় গাছে বেঁধে তরুণ-তরুণীকে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামে তরুণ-তরুণীকে হাত-পা শিকল দিয়ে আটকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। নির্যাতনের একটি ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।

ভিডিওটিতে দেখা গেছে, তরুণ-তরুণীকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। তাঁদের দুজনের চার হাত একসঙ্গে বাঁধা। পায়ে শিকল দিয়ে তালা দেওয়া। অসহায় তরুণ–তরুণী নির্বিকার। চারপাশে কিছু মানুষ তাঁদের নিয়ে কটাক্ষ করছেন।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছেলেটির বাড়ি দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায়। বেশ কিছুদিন হলো ছেলেটির সঙ্গে মেয়েটির প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। গত মঙ্গলবার ছেলেটি নবাবগঞ্জ থেকে মেয়েটির সঙ্গে দেখা করতে আসেন। পরদিন গতকাল বুধবার সকালে স্থানীয় লোকজন মেয়েটির বাড়িতে ছেলেটিকে দেখতে পেয়ে দুজনকে আটক করেন। এরপর তাঁদের গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন শুরু করেন। লোকজন তাঁদের দুজনের পা শিকল দিয়ে আটকে রাখেন। পরে গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিরা এসে দুজনকে বিয়ে দিয়ে দেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) পাবনা জেলা মনিটরিং কর্মকর্তা কামাল আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, এ ধরনের ঘটনা সম্পূর্ণ অমানবিক। কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা উচিত।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি তাঁদের আওতাধীন নয়। এলাকাটি পাবনা জেলা সদর ও ঈশ্বরদীর সীমান্তবর্তী। বিষয়টি সদর থানাকে জানানো হয়েছে।

সদর থানার ওসি দুলাল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠানো হয়েছিল। মেয়েটি বিবাহিত। স্বামী ঢাকায় থাকেন। এর মধ্যেই নবাবগঞ্জের ছেলেটির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক হয়। এর ফলে গ্রামের লোকজন উত্তেজিত হয়ে ঘটনাটি ঘটিয়েছেন। পরে গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিরা দুজনকে বিয়ে দিয়েছেন। তাঁরা গ্রাম ছেড়ে চলে গেছেন। তবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়াটা ঠিক হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করছেন।