
জন্মের ১১ মাসের সময় পোলিওতে আক্রান্ত হন মো. মহিউদ্দিন। তখন ডান পা ও বাম হাত অকার্যকর হয়ে যায়। পরবর্তী সময় ক্র্যাচে ভর দিয়ে চলাচল শুরু করেন তিনি। পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে চাকরিতে যোগ দেন। এখন তিনি কুমিল্লার কোটবাড়ীতে অবস্থিত গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক। শারীরিক কারণে তাঁকে যানবাহনে তুলতে চাইতেন না চালকেরা। ঝক্কিঝামেলা এড়াতে তিনি নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে একটি ইজিবাইক তৈরি করান। এখন নিজেই ইজিবাইক চালিয়ে বিদ্যালয়ে যান, সন্তানদের স্কুলে আনা–নেওয়া করেন, হাটবাজারে যান।
কুমিল্লার কোটবাড়ী এলাকার বিভিন্ন সড়কে ওই ইজিবাইক চলে। ওই এলাকার মানুষের কাছে এটি মহিউদ্দিন স্যারের ইজিবাইক নামে পরিচিত।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার সুবর্ণপুর গ্রামের ফজলুর রহমান ও রাহেলা বেগমের চার ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে মহিউদ্দিন চতুর্থ। ২০০০ সালে সুয়াগঞ্জ টি আই হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে থেকে এসএসসি ও ২০০২ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বিবিএ ও এমবিএ করেন। এরপর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি হাইস্কুলে যোগ দেন। ২০১৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুলে বদলি হন। মহিউদ্দিনের তিন সন্তান। একমাত্র মেয়ে ল্যাবরেটরি স্কুলের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। বড় ছেলে একটি মাদ্রাসায় পড়ে। ছোট ছেলের বয়স সাড়ে চার বছর।
গতকাল রোববার মহিউদ্দিনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘হঠাৎ এক দিন মনে হলো পথে চলতে কষ্ট হচ্ছে। একটি ইজিবাইক তৈরি করব। নিজেই চালাব। দেড় মাস আগে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর এলাকায় গিয়ে একটি ইজিবাইক বানাতে দিই। পেছনে দুটি বসার আসন। আসনগুলো বাসের আসনের মতো। ইজিবাইকের চারপাশে গ্লাস লাগানো। সামনে আমি বসি। পেছনে ছেলেমেয়েরা বসে। এখন আমি দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছতে পারি। যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। ঝামেলা পোহাতে হয় না।’
এই শিক্ষক বলেন, ইজিবাইক চালাতে তাঁর ভালো লাগে। মাঝেমধ্যে সড়কের পাশে দাঁড়ানো যাত্রীরা হাত তুলেন উঠার জন্য। তখন তাঁদের তিনি বলেন, এটা প্রাইভেট গাড়ি।
কুমিল্লা গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক রোকসানা ফেরদৌস মজুমদার বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা মাড়িয়ে মহিউদ্দিন এগিয়ে যাচ্ছেন। তিনি নিজের কাজ নিজে করেন। ভালোবাসা নিয়ে করেন। তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে তাঁর জ্ঞান ভালো। তাঁর এই কর্মতত্পরতা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে।