
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা ‘হাঁস’ প্রতীক পেয়েছেন। আজ বুধবার দুপুরে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এই প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।
গত ২৯ ডিসেম্বর রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুবকর সরকারের কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। সেখান থেকে ফেরার পথে কর্মী-সমর্থক সমর্থকের উদ্দেশ্য তিনি বলেছিলেন, ‘আপনারা যে মার্কা চান, সেই মার্কাই আমার। আপনারা কী মার্কা চান? উত্তরে অনুসারীরা বলেছিলেন, ‘হাঁস, হাঁস।’ এর আগেও তিনি একাধিকবার নির্বাচনে ‘হাঁস’ প্রতীকের পছন্দের কথা জানিয়েছিলেন।
আজ রুমিন ফারহানা সশরীরে উপস্থিত হয়ে হাঁস প্রতীক দাবি করেন। অন্য কোনো প্রার্থী এই প্রতীক দাবি করেননি। পরে রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁকে এই প্রতীক বরাদ্দ দেন।
এরপর রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে রুমিন ফারহানা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মানুষের সঙ্গে গণসংযোগ চালাতে গিয়ে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছি। আমি প্রশাসনকে জানিয়েছি। আমি আশা রাখব, প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকবে। এই আসনের দিকে সবার চোখ আছে। পুরো বাংলাদেশের চোখ আছে। এ ছাড়া এই আসনে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেরও নজর থাকবে। আমি এই আসনের একজন নারী স্বতন্ত্র প্রার্থী। সার্বিক বিবেচনায় আমি বলব নির্বাচনটাকে যেন কেউ কোনোভাবে কালিমালিপ্ত করতে না পারে, প্রশাসনকে সজাগ থাকতে হবে।’
রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশ্যে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘দলগুলোকেও বলব, যার যার বৃহত্তর স্বার্থে এই আসনে যেন তাঁদের নেতা-কর্মীরা অসংলগ্ন আচরণ না করে, আইন না ভাঙেন, অসভ্য আচরণ না করেন। বড় দলগুলোর দায়িত্ব হবে, এই বিষয় এনশিউর (নিশ্চিত) করা। কারণ, তা না হলে এই দাগ তাঁদের বাকি সময়ে বয়ে বেড়াতে হবে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনটি বর্তমানে সরাইল, আশুগঞ্জ উপজেলার পুরোটা এবং বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ও বুধন্তী ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। আসনটি শরিক দলের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি জুনায়েদ আল হাবীবকে ছাড় দিয়েছে বিএনপি।
রুমিন ফারহানা ছাড়াও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি (বহিষ্কৃত) ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব তরুণ দে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন।