
বরিশাল–৪ (মেহেন্দীগঞ্জ ও হিজলা) আসনে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর বিএনপির প্রার্থীর নেতা–কর্মীদের হামলার অভিযোগ করেছে জামায়াত। এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার বিকেলে বরিশাল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন জামায়াতের প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী প্রতিনিধি সৈয়দ গুলজার আলম।
বরিশাল–৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা আবদুল জব্বার। তিনি বরিশাল জেলা জামায়াতের আমির। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী রাজিব আহসান। তিনি কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সৈয়দ গুলজার আলম বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিন গতকাল সন্ধ্যায় মেহেন্দীগঞ্জের কাজিরহাট থানার আন্দারমানিক ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কলকুঠি মাদ্রাসা এলাকায় প্রচারকাজ চলছিল। এ সময় স্থানীয় বিএনপির নেতা–কর্মীরা তাঁদের প্রচারে বাধা দেন। বিষয়টি নিয়ে জামায়াতের নেতা–কর্মীরা প্রতিবাদ করলে পাশের বিএনপি অফিস থেকে লাঠিসোঁটা এনে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় নেতৃত্ব দেন মোফাজ্জেল দেওয়ান, মোহাম্মদ আলী, আয়নাল মাঝি, আনোয়ার হাওলাদারসহ আরও ২৫ থেকে ৩০ জন। হামলাকারীরা জামায়াতের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে থাকা ১২টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে খালে ফেলে দেন এবং একটি মোটরসাইকেল নিয়ে যান। এ সময় লাঠির আঘাতে কয়েকজন মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং একজনের পা ভেঙে যায়।
সৈয়দ গুলজার আলম আরও বলেন, হামলার সময় আহত ব্যক্তিরা পাশের একটি চায়ের দোকানে আশ্রয় নিলে সেখানেও হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে জামায়াতের নেতা–কর্মীরা সেনাবাহিনীকে ফোন করলে সেনাসদস্যরা এসে তাঁদের উদ্ধার করেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুজনকে বরিশালের শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য পাঁচজন হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। তিনি অভিযোগ করেন, এর আগেও ২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষের ১৫ থেকে ২০ কর্মী তাঁদের নারী কর্মীদের ওপর হামলা চালান। সে ঘটনায় কাজিরহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে দাবি করেন তিনি। উল্টো ধানের শীষের নেতা–কর্মীরা তাঁদের সমর্থকদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের প্রার্থীর নির্বাচনী মিডিয়া কমিটির সমন্বয়ক মুজাহিদুল ইসলাম ইউসুফ ও সদস্য সালেহ উদ্দিন।
এ বিষয়ে জানতে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিনকে ফোন করা হলে আরেকজন ফোন ধরে বলেন, তিনি একটি কর্মী সভায় ব্যস্ত আছেন। পরে যোগাযোগ করতে বলা হয়।
কাজিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নবিউল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আন্দারমানিক ইউনিয়নে গতকাল সন্ধ্যায় জামায়াত ও বিএনপির প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের নেতা–কর্মীরা আহত হয়েছেন। দুই পক্ষই এ ঘটনায় পৃথক মামলা করেছে। আমরা ঘটনার তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।’