
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারার বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আরও সাত কর্মচারীকে ঢাকায় বন্দরের দুই কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। এ নিয়ে দুই দিনে ১১ কর্মচারীকে বদলি করা হলো। আজ রোববার বন্দরের চিফ পারসোনেল অফিসারের সই করা এক আদেশে এই সাতজনকে বদলি করা হয়। তবে বদলির আদেশে জরুরি দাপ্তরিক ও অপারেশনাল কাজে তাঁদের বদলি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
ইজারা ও কর্মচারীদের বদলির প্রতিবাদে আগামীকাল সোমবার আবারও সকাল আটটা থেকে আট ঘণ্টা কর্মবিরতির ঘোষণা করেছেন আন্দোলনকারীরা। তবে এবার বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের পরিবর্তে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের’ ব্যানারে এই কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন তাঁরা। বিএনপিপন্থী শ্রমিক সংগঠন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সমন্বয়ক এই সংগ্রাম পরিষদেরও সমন্বয়ক হিসেবে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
বদলি হওয়া সাত কর্মচারী হলেন পরিবহন বিভাগের উচ্চ বহিঃসহকারী মোহাম্মদ শফি উদ্দিন ও রাশিদুল ইসলাম, পরিকল্পনা বিভাগের স্টেনো টাইপিস্ট মো. জহিরুল ইসলাম, বিদ্যুৎ বিভাগের এসএস পেইন্টার হুমায়ুন কবির, প্রশাসন বিভাগের উচ্চমান সহকারী মো. শাকিল রায়হান, যান্ত্রিক বিভাগের ইসিএম ড্রাইভার মানিক মিঝি ও প্রকৌশল বিভাগের মেসন মো. শামসু মিয়া। এর মধ্যে চারজনকে ঢাকার কমলাপুর কনটেইনার ডিপোয় ও তিনজনকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের পানগাঁও নৌ টার্মিনালে বদলি করা হয়েছে।
এই সাতজনকে আগামীকাল পূর্বাহ্ণে (দুপুর ১২টার আগে) নতুন বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির প্রথম আলোকে বলেন, ‘আন্দোলন করার কারণে বন্দর কর্তৃপক্ষ একের পর এক কর্মচারীদের বদলি করছে। আজ সাতজনকে বদলি করল। ইজারাপ্রক্রিয়া বাতিল ও বদলির বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও তীব্র হবে। আগামীকালও কর্মবিরতি চলবে।’
এদিকে এনসিটি সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আজ রোববার দ্বিতীয় দিনের কর্মবিরতিতে সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত পরিচালন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে। বিকেল চারটার পর বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়।