এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন ও টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘যৌথ শীতকালীন এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম-২০২৬’ শুরু হয়েছে। উদ্বোধনী দিনে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা। আজ দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের চট্টেশ্বরী সড়কের ক্যাম্পাসে
এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন ও টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘যৌথ শীতকালীন এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম-২০২৬’ শুরু হয়েছে। উদ্বোধনী দিনে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা। আজ দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের চট্টেশ্বরী সড়কের ক্যাম্পাসে

জাপানি শিক্ষার্থীদের পদচারণে মুখর এইউডব্লিউর ক্যাম্পাস

এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন (এইউডব্লিউ) ও জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউটোকিও) ‘যৌথ শীতকালীন এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম-২০২৬’ শুরু হয়েছে। ১২ দিনের এ কর্মসূচিতে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে বসে আলোচনা করবেন অভিবাসন, বাস্তুচ্যুতি, শ্রম গতিশীলতা ও জলবায়ু সহনশীলতার মতো জটিল বাস্তবতা নিয়ে।

আজ রোববার নগরের চট্টেশ্বরী রোডে অবস্থিত এইউডব্লিউর মাশা আমিনি ক্যাম্পাসে এ প্রোগ্রামের উদ্বোধনী পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রোগ্রামের আওতায় টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ১০ জন ছাত্রী ও ৫ জন ছাত্র এইউডব্লিউতে এসেছেন। সঙ্গে আছেন দুজন অধ্যাপক। আবার আগামী জুলাইয়ে এইউডব্লিউর ১৫ ছাত্রী টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউটোকির অধ্যাপক মেরি ইয়োশোহিহারা, শো শিমোয়ামাদা, এইউডব্লিউর সহকারী অধ্যাপক অয়ন সাহা, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক তপু চৌধুরী শিক্ষার্থীদের সামনে এই প্রোগ্রামের উদ্দেশ্য ও করণীয় তুলে ধরেন। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন স্থপতি ও নগর–পরিকল্পনাবিদ জেরিনা হোসেন। তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়ে শহরের বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পাঁচ বছর ধরে এই প্রোগ্রাম শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা, সংস্কৃতিসহ নানা বিষয়ে মিথস্ক্রিয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এইউডব্লিউ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব—এই দুই বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে একটি ‘লিভিং ল্যাবরেটরি’ হিসেবে দেখা হবে। ক্যাম্পাসভিত্তিক লেকচারের পাশাপাশি থাকবে সরেজমিন অভিজ্ঞতা। রোহিঙ্গা শিবিরে নারী ও অবকাঠামোগত ঘাটতি, মানব অভিবাসনের ভবিষ্যৎ, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্থানচ্যুতি এবং শরণার্থী প্রেক্ষাপটে শিক্ষক ও আলোচকেরা বক্তৃতা দেবেন দেশি-বিদেশি গবেষক ও নীতিনির্ধারণী বিশেষজ্ঞরা।

শিক্ষার্থীরা সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙা শিল্প এলাকা, চট্টগ্রামের তৈরি পোশাক কারখানা প্যাসিফিক জিনস, উন্নয়ন সংস্থা ‘ঘাসফুল’ এবং ফটিকছড়ির নেপচুন চা বাগান পরিদর্শন করবেন। এসব ভ্রমণের মধ্য দিয়ে অভ্যন্তরীণ শ্রম অভিবাসন, ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশ ও গ্রামীণ জীবিকার বাস্তবতা কাছ থেকে দেখার সুযোগ মিলবে।

ফাস্ট রিটেইলিং ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে পরিচালিত এ কর্মসূচির আয়োজক এইউডব্লিউ ও ইউটোকিও। গত বছর গ্রীষ্মকালীন অধিবেশন হয়েছিল টোকিওতে; এবার শীতকালীন আয়োজন বসছে চট্টগ্রামে।