অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামে এলে উত্তর কাট্টলীতে পৈত্রিক নিবাসে যান। সেখানে তিনি মা–বাবার কবর জিয়ারত করেন। এ সময় নেত–কর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। আজ বেলা সাড়ে ১১টায়
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামে এলে উত্তর কাট্টলীতে পৈত্রিক নিবাসে যান। সেখানে তিনি মা–বাবার কবর জিয়ারত করেন। এ সময় নেত–কর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। আজ বেলা সাড়ে ১১টায়

চার দিনের মধ্যে পণ্যের শুল্কায়ন করতে হবে: চট্টগ্রামে আমীর খসরু

আমদানি করা কাঁচামাল ও পণ্য চার দিনের মধ্যে যাতে শুল্কায়ন হয়, সে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর আজ শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের মেহেদীবাগের বাসভবনে চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমস ও বন্দর ব্যবহারকারীদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন।

আমদানি পণ্য বিনা ভাড়ায় বন্দরে চার দিন রাখা যায়। এরপর প্রতিদিনের জন্য বন্দর ভাড়া গুনতে হয় ব্যবসায়ীদের। চার দিনের মধ্যে শুল্কায়ন ও খালাস হলে ভাড়া গুনতে হবে না। এতে ব্যবসার খরচ কমে আসবে—এমন পরিকল্পনা থেকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এ নির্দেশনা দিয়েছেন বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

বৈঠক শেষে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, ব্যবহারকারীদের নিয়ে বৈঠকে অনেকগুলো সমস্যার সমাধান হয়েছে। আন্তমন্ত্রণালয় সিদ্ধান্তের প্রয়োজন থাকায় কিছু সমস্যা সমাধানে কয়েক দিন সময় লাগবে। এসব সমস্যার সমাধান হলে বন্দরের কার্যক্রমে গতি আসবে। দ্রুত পণ্য খালাস হবে। পণ্য খালাস দ্রুত হলে খরচ কমে আসবে।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘এখন রোজার যে পণ্যগুলো আছে সেগুলোর খালাসে ধীরগতি রয়েছে। এগুলো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমরা খালাসের ব্যবস্থা করাচ্ছি, যাতে খরচ কম পড়ে, দাম না বাড়ে।’

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি আমিরুল হক ২৪ ঘণ্টায় পণ্য খালাসের ব্যবস্থার দাবি জানান। এ সময় কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ শফি উদ্দিন পণ্যের নমুনা পরীক্ষাসহ নানা কারণে একাংশ আমদানি পণ্যের শুল্কায়নে সময় লাগে বলে জানান। সব দিক বিবেচনা করে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী চার দিনের মধ্যে শুল্কায়নের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন। এ জন্য যেসব বাধা রয়েছে সেগুলো চিহ্নিত করতে নির্দেশনা দেন তিনি, যাতে দ্রুত সমাধান করা যায়।

বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকে কিছু অগ্রগতি হয়েছে উল্লেখ করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘সার্বিকভাবে অনেক সমস্যা আছে এখানে। প্রত্যেক অংশীজনের সঙ্গে বসে কিছু সমাধান আজকে দিতে পেরেছি। কিছু আলাপ–আলোচনা বাকি রয়েছে। এগুলো করব।’

চট্টগ্রাম বন্দরের সাম্প্রতিক সমস্যার সমাধান হবে উল্লেখ করে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের যে সমস্যার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে, বাজারের দ্রব্যমূল্য বাড়ছে, বন্দর নিয়ে যে কর্মকাণ্ড চলছে, এটার সমাধান হবে ইনশা আল্লাহ।’

ব্যবহারকারীদের সঙ্গে বৈঠকে পোর্ট ইউজার্স ফোরামের আহ্বায়ক আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, সিমেন্ট প্রস্তুতকারক সমিতি ও এলপিজি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমিরুল হক, বিজিএমইএর পরিচালক এম এ সালাম, বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকলস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) সাবেক নেতা হাবিবুর রহমান, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুল ইসলামসহ অনেকে অংশ নেন।

আমীর খসরু বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে প্রত্যেকে নিজস্ব স্বার্থে কার্যক্রম পরিচালনা করায় বন্দরের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে পণ্য খালাসে দেরি হচ্ছে এবং বাড়তি খরচ যোগ হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে বহন করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরকে কেন্দ্র করে যে কার্যক্রম চলছে, সেটাই আজ দেশের দ্রব্যমূল্য বাড়ার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু নিত্যপণ্য নয়, শিল্পকারখানার কাঁচামালসহ দেশে আসা সব ধরনের পণ্যের ওপর এর প্রভাব পড়ছে।’

আমীর খসরু জানান, আজকের বৈঠকে কাস্টমস, বন্দর কর্তৃপক্ষ, পরিবহনশ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডার উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে একে একে চিহ্নিত করা হয়েছে—কোথায় সমস্যা হচ্ছে, কেন হচ্ছে এবং কোন কোন কারণে পণ্যের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিটি পয়েন্ট ধরে আলোচনা করেছি। কোথায় গতি কমছে, কোথায় অপ্রয়োজনীয় খরচ বাড়ছে—সবকিছু খতিয়ে দেখা হয়েছে। এর মধ্যে অনেক সমস্যার সমাধান আজই নির্ধারণ করা গেছে।’

এর আগে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর নেতা–কর্মীরা ফুল দিয়ে বরণ করে নেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে। পরে সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ধীরে ধীরে সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। তবে আমাদের অগ্রাধিকার থাকবে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে। চট্টগ্রামের উন্নয়ন মানেই দেশের উন্নয়ন। কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বাড়ানো—এ দুই বিষয়কে সামনে রেখেই আমরা এগোব।’

চট্টগ্রামকে প্রকৃত অর্থেই বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মন্ত্রী জানান, বন্দর আধুনিকায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরকে আরও আধুনিক ও সক্ষম করতে হবে। বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু বলেন, ‘গণতান্ত্রিক অর্ডার ফিরে এসেছে। একটি নির্বাচিত সংসদ ও সরকার এসেছে। সব দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে। সে জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’

চট্টগ্রামের উন্নয়নে কী পদক্ষেপ নেবেন জানতে চাইলে আমীর খসরু বলেন, ‘চট্টগ্রামের উন্নয়ন তো বাংলাদেশের উন্নয়ন। সেদিকে তো কাজ করতেই হবে। অনেক বড় দায়িত্ব। দেখা যাক কী হয়। চেষ্টা করব সবাইকে নিয়ে।’

চট্টগ্রামকে সত্যিকার অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপান্তরের বিষয়ে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে প্রশ্নে আমীর খসরু বলেন, ‘বাণিজ্যিক রাজধানীর সঙ্গে অনেক কিছু সম্পর্কিত। সবকিছু নিয়ে আমরা কাজ করব। আশা করি সামনের দিকে যেতে পারব। ভালো করতে পারব।’

এদিকে চট্টগ্রামে আসার পর আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী তাঁর পৈতৃক নিবাস নগরের কাট্টলীতে যান। সেখানে তাঁর মা–বাবার কবর জিয়ারত করেন। সেখানেও নেতা–কর্মীদের ভিড় লেগে যায়। তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান তাঁরা। জুমার নামাজের পর আমীর খসরু নগরের মেহেদীবাগের বাসায় যান। সেখানেও নেতা–কর্মীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। নেতা–কর্মীদের ভিড়ে মেহেদীবাগের বাসার সামনের সড়কে যানজট সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় ট্রাফিক পুলিশকে।