রাজবাড়ীতে প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তারের পর ধর্ষণচেষ্টা, শ্লীলতাহানি ও ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে পুলিশের এক এসআইসহ (উপপরিদর্শক) পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক নারী আইনজীবী। ঘটনার প্রায় ৯ মাস পর গত ১৩ জানুয়ারি রাজবাড়ী আদালতে তিনি মামলার আবেদন করেন। আজ শুক্রবার রাজবাড়ী সদর থানায় লিখিত অভিযোগ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন রাজশাহী নগরের বোয়ালিয়া থানার তৎকালীন এসআই মো. মাহফুজুর রহমান, রাজশাহী মহানগরের চন্দ্রিমা থানার ছোট বনগ্রামের শেখ আবদুল্লাহ, লালমনিরহাট আদিতমারী থানার আদিতমারী গ্রামের বাসিন্দা ও বর্তমান রাজশাহী শাহমখদুম থানার শাহমখদুম এলাকার বাসিন্দা জাহিদ উল আলম, রাজশাহী রাজপাড়া থানার চণ্ডীপুর গ্রামের রোমান ইসলাম ও মো. ছালাম।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে ১৩ জানুয়ারি মামলার আবেদন করলে বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শেখ মফিজুর রহমান রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল বেলা আড়াইটার দিকে রাজবাড়ী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর সামনে থেকে পুলিশ ওই নারী আইনজীবীকে আটক করে গাড়িতে তোলেন। গাড়িতে একজন নারী পুলিশ সদস্য থাকলেও কৌশলে তাঁকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। এরপর আলো বন্ধ করে গাড়ির ভেতরে এসআই মাহফুজ ওই আইনজীবীর মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। গাড়িতে উপস্থিত জাহিদ উল আলম ও মো. ছালাম চড়থাপ্পড় মারতে থাকেন। আবদুল্লাহ ও মাহফুজুর শ্লীলতাহানি করে এবং পরনের কাপড় আংশিক ছিঁড়ে ফেলেন। ছালাম ও রোমান ধর্ষণের চেষ্টা করলে নারী আইনজীবীর চিৎকারে নারী পুলিশ সদস্য জেগে উঠলে তাঁরা থেমে যান।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ওই দিন রাত সাড়ে ৩টার দিকে ওই নারী আইনজীবীকে রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানায় রাখা হয়। ২ এপ্রিল রাজশাহীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহানগর আদালত তাঁর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল এসআই মাহফুজুর রহমান রিমান্ডে তাঁকে শারীরিক, মানসিক নির্যাতন করেন। রিমান্ডের কক্ষে লোকজন উপস্থিত থাকার বিধান না থাকলেও শেখ আবদুল্লাহ, জাহিদ উল আলম, রোমান ইসলাম ও ছালামকে কক্ষে রাখেন। তাঁরা ওই নারী আইনজীবীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, শারীরিক, মানসিক নির্যাতন করে ভিডিও চিত্র ও স্থিরচিত্র ধারণ করেন, যা আদালতে যাওয়ার আগেই প্রকাশ পায়। রিমান্ড চলাকালে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে ১০০ টাকা মূল্যের তিনটি নন–জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর নেন এবং ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। নাহলে জীবননাশের হুমকি দেন।
অভিযুক্ত এসআই মাহফুজুর রহমান বর্তমানে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ওই নারী আইনজীবী, তাঁর স্বামী, শ্বশুরসহ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় প্রতারণা মামলা রয়েছে। তাঁরা রেলওয়েতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে বিভিন্নজনের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি বোয়ালিয়া থানায় এমন একটি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে তিনি তাঁকে গ্রেপ্তার করেন। ধর্ষণচেষ্টা বা নির্যাতনের অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট বলে তিনি দাবি করেন।
রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) শরীফ আল রাজীব প্রথম আলোকে বলেন, আদালতের আদেশনামা হাতে পাওয়ার পর আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। এখন এ বিষয়ে তদন্তকাজ সম্পন্ন করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।