সিলেটে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। আজ সোমবার দুপুরে সিলেট নগরের সারদা হলে
সিলেটে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। আজ সোমবার দুপুরে সিলেট নগরের সারদা হলে

পাইকারি-খুচরার সামঞ্জস্য

ঈদের পরই ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি কাজ শুরু করবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পাইকারি ও খুচরা দামের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখতে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি কাজ করবে। ঈদের পরই কমিটি কাজ শুরু করবে।

আজ সোমবার সকালে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নে কাদিরপুর–চম্পাতলী খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এ কথা বলেন।

বাজারে পাইকারি ও খুচরা দামের ব্যবধান নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পাইকারি ও খুচরা দামের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য থাকবেই। তবে সেই ব্যবধান যেন অগ্রহণযোগ্য পর্যায়ে না যায়, সে জন্য সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

জ্বালানি তেল আমদানি ও দেশের বাণিজ্যঘাটতি প্রসঙ্গে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, সরকার স্পট মার্কেট থেকে তেল কিনেছে। স্বাধীনতার পর থেকেই দেশে আমদানির পরিমাণ রপ্তানির তুলনায় বেশি। তবে ভবিষ্যতে এ ঘাটতি কমাতে সরকার কাজ করবে।

এর আগে ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের কাদিরপুর–চম্পাতলী খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এ সময় সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সোমবার দুপুরে সিলেট সিটি করপোরেশনের আয়োজনে নগরের মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, আগামীতে উন্নয়নমূলক কাজের তদারকিতে ইমামদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। ইমামরা তদারকিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করলে সামাজিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সমাজের মানুষ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেদের মালিকানা অনুভব করবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে দলের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছিল। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইমামদের কল্যাণে সরকার দুটি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সে লক্ষ্যে ইমামদের মর্যাদা রক্ষায় ব্যক্তিগত ইচ্ছায় নিয়োগ ও চাকরিচ্যুতি রোধে রাষ্ট্রস্বীকৃত একটি বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি ইমামদের জন্য এমন সম্মানীর ব্যবস্থা করা হবে, যাতে চার থেকে ছয় সদস্যের একটি পরিবার সচ্ছলভাবে জীবন যাপন করতে পারে।

অনুষ্ঠানে সিলেট নগরের ৮২৭টি মসজিদের ১ হাজার ৬৪ জন ইমাম ও ১ হাজার ২১১ জন মুয়াজ্জিনের মধ্যে মোট ৩৯ লাখ ৪৪ হাজার ৫০০ টাকা সম্মানী প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী, বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী ও সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার।