বিএনপি নেতা শামসুজ্জামানের জানাজায় হাজারো মানুষ অংশ নেন। বুধবার বেলা ১১টায় জীবননগর পৌর ঈদগাহ ময়দানে
বিএনপি নেতা শামসুজ্জামানের জানাজায় হাজারো মানুষ অংশ নেন। বুধবার বেলা ১১টায় জীবননগর পৌর ঈদগাহ ময়দানে

চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি নেতার মৃত্যু

হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে শামসুজ্জামানের প্রথম জানাজা, আগামীকাল দাফন

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সেনা অভিযানে আটকের পর মারা যাওয়া বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান ডাবলুর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে জীবননগর পৌর ঈদগাহ ময়দানে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রবাসী স্বজনেরা ফিরলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় জানাজা শেষে পৌর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

শামসুজ্জামানের ভগ্নিপতি মোহাম্মদ সালাউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, নিহত শামসুজ্জামানের মা হাফিজা খাতুন ও ছোট ভাই আবদুল্লাহ আল মামুন লন্ডনপ্রবাসী। ছোট ভাই আসার পর লাশ দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত সোমবার রাতে জীবননগর পৌর এলাকায় অভিযান চালায় সেনাবাহিনীর একটি দল। অভিযানকালে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামানকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘হাফিজা ফার্মেসি’ থেকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। স্বজনদের অভিযোগ, আটকের পর তাঁকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর ক্যাম্প কমান্ডারসহ সব সেনাসদস্যকে প্রত্যাহারের পাশাপাশি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

আজ বেলা ১১টায় জীবননগর পৌর ঈদগাহ ময়দানে শামসুজ্জামানের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে। জানাজাপূর্ব আলোচনা সভা শোকসভায় পরিণত হয়। এ সময় জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বি এম তারিকুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুস্তাফিজুর রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের প্রার্থী মো. শরিফুজ্জামান, শামসুজ্জামানের বড় ভাই শরিফুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচারের দাবি জানান।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বি এম তারিকুজ্জামান বলেন, এই মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে যা যা করার তা করা হবে। যাঁরা দোষী, তাঁরা ছাড় পাবেন না বলে আশ্বস্ত করেন তিনি। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা খুবই মর্মাহত। সবাই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকব। ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে ইনশা আল্লাহ।’

জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে না ঘটে, সে ব্যাপারে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে। শামসুজ্জামানের মৃত্যুর জন্য দায়ী সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানি ব্যক্তির দায় বাহিনী নেবে না। সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। কিন্তু সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে কিংবা যৌথ বাহিনীর অভ্যন্তরে যারা আইন হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করবে এবং আইনবহির্ভূত কাজ করবে, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

বিএনপি নেতা মো. শরিফুজ্জামান বলেন, ‘যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে। ভবিষ্যতে যেন কারও এ রকম পরিস্থিতি না হয়, সে জন্য আমরা সবাই সচেতন থাকব, ঐক্যবদ্ধ থাকব।’