হাসপাতালের বিছানায় পাশাপাশি শুয়ে আছে দুই ভাই মো আরাফাত (৭) ও মো. আরমান (দেড় বছর)। পাশে বসে আছেন তাদের মা মোস্তাকিমা। চার দিন ধরে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা পরিষদের আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র (আইসিডিডিআরবি) হাসপাতালে রয়েছেন তিনি। স্বামী আবদুর রহমানও (৩৫) জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। তবে এখনো তাঁর ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়নি।
মোস্তাকিমা বেগম (৩০) টেকনাফ উপজেলার সদর ইউনিয়নের নতুন পল্লানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী আবদুর রহমান দিনমজুর। গতকাল রোববার মোস্তাকিমা প্রথম আলোকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার দুই ছেলেকে একসঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি করান তিনি। পরীক্ষায় তাদের ডেঙ্গু পজিটিভ আসে। চার দিন ধরে দুই ছেলে মাথা ও শরীরের ব্যথা নিয়ে ছটফট করছে। তাদের সামলানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে। দুই ছেলের শয্যার পাশে নির্ঘুম রাত কাটছে মায়ের।
মোস্তাকিমা আরও বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসা বিনা মূল্যে হলেও সংসার চালানোর দুশ্চিন্তা যাচ্ছে না। অসুস্থ হওয়ায় কাজে যেতে পারছেন না স্বামী। চিকিৎসকের পরামর্শে বাড়িতে বিশ্রাম নিচ্ছেন। তাই উপার্জনও বন্ধ। হাতে কোনো টাকাপয়সাও নেই। পরিবারের চার সদস্যের তিনজনই অসুস্থ হওয়ায় কী করবেন, কিছু বুঝে উঠতে পারছেন না।
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সূত্র জানায়, গত শনিবার পর্যন্ত উপজেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১২৭ জন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে ৬ জন ও আইসিডিডিআরবিতে ১২ জন রোগী ভর্তি আছেন। উপজেলার পল্লানপাড়া এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। তবে টেকনাফ উপজেলায় এখনো মৃত্যুর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কক্সবাজার জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যায় এখন পর্যন্ত তৃতীয় স্থানে রয়েছে টেকনাফ উপজেলা।
টেকনাফ সদরের নতুন পল্লানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আবদুর শফি ও রাজিয়া বেগমের সন্তান উমর সায়েম (১১) ডেঙ্গু আক্রান্ত। তার ছোট বোন সাদিয়া (৯) জ্বরে আক্রান্ত হলেও ডেঙ্গু ধরা পড়েনি। গতকাল রাতে তাদেরও ভর্তি করা হয়েছে আইসিডিডিআরবি হাসপাতালে।
আইসিডিডিআরবি এর যোগাযোগ কর্মকর্তা আশরাফুল আনোয়ার বলেন, এই মাসের শুরু থেকে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বেড়েছে। শয্যা স্বল্পতার কারণে সবাইকে ভর্তিও করানো যাচ্ছে না। এ পর্যন্ত ৩৭ জন ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। গত ২ দিনেই ৪ জন শিশুসহ ১২ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। প্রতিদিনই ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালের বহির্বিভাগে মানুষ আসছেন। সন্দেহজনক মনে হলে চিকিৎসকেরা ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে দিচ্ছেন।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে এবং ইউনিসেফের সহযোগিতায় আইসিডিডিআরবি পরিচালিত ৬৫ শয্যার (রেসপিরেটরি ডিজিজ) হাসপাতালে মূলত কোভিডসহ শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগের চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। এ ছাড়া ডেঙ্গু, ডায়রিয়া, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং অপুষ্টির জন্য বিনা মূল্যে রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্র জানায়, বর্তমানে টেকনাফে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় হাসপাতালের একটি আলাদা ডেঙ্গু ওয়ার্ড খোলা হয়েছে।