
রাজধানীর উত্তরায় বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের উড়ালসড়কের গার্ডারের চাপায় নিহত আইয়ুব হোসেন ওরফে রুবেলের (৫০) গ্রামের বাড়ি মেহেরপুর সদর উপজেলার বারাদি ইউনিয়নের রাজনগর ঘোড়ামারা গ্রামে। বাড়িতে তাঁর স্বজনদের মাতম চলছে। নিকটাত্মীয়রা বাড়িতে আসছেন এক এক করে। আজ মঙ্গলবার ওই গ্রামে আইয়ুব হোসেনের বাড়িতে গিয়ে এ চিত্র দেখা গেছে।
পরিবারের সদস্যরা বলেন, যে গাড়িটি গার্ডারচাপা পড়েছে, সেটির মালিক আইয়ুব হোসেন। গত শুক্রবার আইয়ুব হোসেন তাঁর নতুন কেনা প্রাইভেট কারে করে গ্রামের বাড়িতে আসেন। বাড়িতে তিনি দুই দিন ছিলেন।
আইয়ুব হোসেনের বড় বোন আদরি খাতুন বলেন, ‘আমাকে চিকিৎসা করানোর জন্য বাড়িতে এসেছিল। ক্লিনিকে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করায়। ওষুধ কিনে দিয়ে চলে যায়। আবার এক মাস পর আসার কথা বলে গেছে। এখন মৃত্যুর খবর এল।’
আইয়ুব হোসেনের ভাইয়ের ছেলে সাইফুল ইসলাম বলেন, আইয়ুব হোসেনের বাবা তারাচান্দ মণ্ডল মারা যান ১৯৯৮ সালে। তাঁর মা ছফিতুন খাতুন মারা যান ৪০ বছর আগে। আইয়ুব হোসেনরা মোট ৯ ভাই। আইয়ুব ছিলেন আট নম্বর ভাই। তাঁদের দুই বোন এই গ্রামেই বসবাস করেন।
আইয়ুব হোসেনের বড় ভাই আবদুল খালেক বলেন, ‘আমার ভাই ২০০০ সালে প্রথম ঢাকা শহরে গার্মেন্টসে চাকরি করতে যায়। সেখান থেকে গার্মেন্টস পণ্য কিনে বাজারে বিক্রি করত। পরে আরও নানা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল। কিছুদিন হলো সে নতুন একটি প্রাইভেট কার কিনে বাড়িতে বেড়াতে আসে।’
আইয়ুব হোসেনের একমাত্র ছেলে হৃদয়ের (২৬) বিয়ে হয় গত শনিবার। গতকাল ছিল ছেলের বাড়িতে বউভাতের অনুষ্ঠান। সেই অনুষ্ঠান শেষে তাঁরা গাড়িতে মেয়ের বাড়িতে ফিরছিলেন। আইয়ুব হোসেন ছেলে ও ছেলের বউকে গাড়িতে করে পৌঁছে দিচ্ছিলেন। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন আইয়ুব হোসেন। গাড়িতে ছিলেন তাঁর ছেলে হৃদয় ও হৃদয়ের স্ত্রী রিয়া মনি (২১)। আরও ছিলেন হৃদয়ের শাশুড়ি ফাহিমা (৩৭), খালাশাশুড়ি ঝর্ণা (২৮) এবং ঝর্ণার দুই সন্তান জান্নাত (৬) ও জাকারিয়া (২)। তাঁদের মধ্যে শুধু হৃদয় ও তাঁর স্ত্রী রিয়া মনি বেঁচে যান।