অবৈধ যানবাহনে পরিবহন করা হচ্ছে নির্বাচনী সরঞ্জাম। আজ ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার মিনি স্টেডিয়ামে
অবৈধ যানবাহনে পরিবহন করা হচ্ছে নির্বাচনী সরঞ্জাম। আজ ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার মিনি স্টেডিয়ামে

নির্বাচন এলেই অবৈধ যান হয়ে যায় বৈধ

সড়ক–মহাসড়কে অবৈধ যানবাহন ভটভটি ও নছিমন-করিমন নিষিদ্ধ। সাধারণ সময়ে সড়কে পেলে এসব যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় ট্রাফিক পুলিশ। কিন্তু নির্বাচন এলেই সেসব অবৈধ যানই প্রশাসনের প্রধান ভরসা হয়ে দাঁড়ায়। নির্বাচনের ব্যালট বাক্স থেকে শুরু করে অন্যান্য সরঞ্জামের সঙ্গে দায়িত্ব পাওয়া পুলিশ ও আনসার সদস্যদের এসব অবৈধ যানে ভোটকেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে।

রাত পোহালেই আগামীকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আজ বুধবার সকালে ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলায় গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার মিনি স্টেডিয়ামে সারি করে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে অসংখ্য ভটভটি, নছিমন ও করিমন।

ভোট গ্রহণের জন্য বিভিন্ন কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম সরবরাহ করা নিয়ে ব্যস্ত সবাই। উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে নির্বাচনী সরঞ্জাম বের করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এরপর মাইকে কেন্দ্রের নাম ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তার নাম ধরে ডাকা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের দায়িত্ব পাওয়া কর্মকর্তারা সেখানে গিয়ে মালামাল বুঝে নিচ্ছেন। এরপর তা তোলা হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের জন্য নির্ধারিত ভটভটি, নছিমন ও করিমনে। প্রতিটি যানের সামনে বড় করে কাগজে লেখা রয়েছে কেন্দ্র, প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও ভটভটির চালকের নাম ও মুঠোফোন নম্বর।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু রানীশংকৈল উপজেলা নয়, জেলার অন্য উপজেলায়ও নির্বাচনী সরঞ্জাম ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আনা–নেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে এসব অবৈধ যান।

একটি ভটভটির কাছে গিয়ে দেখা গেল, সামনের দিকে একটি কাগজ সাঁটা। তাতে লেখা রয়েছে, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬। কেন্দ্র নম্বর–১৬, ভোটকেন্দ্র: রাউতনগর স্কুল অ্যান্ড কলেজ (পশ্চিম ভবন) পুরুষ কেন্দ্র। গ্রাম: রাউতনগর, চালকের নাম: আনারুল ও একটি মুঠোফোন নম্বর।’

ভটভটিতে মালামাল পরিবহনের ব্যাপারে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রিসাইডিং কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচনী সরঞ্জাম পরিবহনের জন্য উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে তাঁদের জন্য যে ব্যবস্থা করা হয়েছে, তাঁরা সেভাবেই সরঞ্জাম নিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের আলাদাভাবে ব্যবস্থা করার কিছু ছিল না।

এদিকে সদর উপজেলা পরিষদের সামনের মহাসড়কে ট্রাক্টরের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার তিনটি আসনে ৪১৭টি কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও–১ আসনে ১৮৫টি, ঠাকুরগাঁও–২ আসনে ১০৪টি ও ঠাকুরগাঁও–৩ আসনে ১২৮টি কেন্দ্র আছে।

জেলা ট্রাক্টর মালিক সমিতির সদস্য মনিরুল হক বলেন, ‘অন্য সময় আমরা অবৈধ। শুধু নির্বাচনের সময় অবৈধ যানবাহন বৈধ হয়ে যায়। নির্বাচন গেলেই চলে এসব যানবাহন আটক।’

ঠাকুরগাঁও ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক হাসান আসকরী (শহর ও যানবাহন) বলেন, ‘এলাকার গাড়ির মালিকেরা এ কাজে গাড়ি দিতে চান না। এ কারণে ভটভটি, নছিমন ও ট্রাক্টর বেছে নেওয়া হয়েছে।’

সরকারি কাজে অবৈধ যান ব্যবহারের কারণ জানতে চাইলে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘অবৈধ হলেও এসব যানবাহন ব্যবহার করা ছাড়া আমাদের উপায় নেই।’