
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার চকরঘুনাথপুর গ্রামের একটি গভীর নলকূপের ঘরের দরজায় চাঁদা দাবি করে চিরকুট রেখে গিয়েছিল দুর্বৃত্তরা। কিন্তু চাঁদা না পাওয়ায় দেড় মাসের মাথায় পাহারাদারকে বেঁধে সেই গভীর নলকূপের তিনটি ট্রান্সফরমারের তামার তার চুরি হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে পাহারাদারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ঘটনার তিন দিন আগে একই উপজেলার রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের নয়দুয়ারি গ্রামের একটি ফসলের মাঠের অগভীর নলকূপ থেকেও একইভাবে তিনটি ট্রান্সফরমারের তামার তার চুরির ঘটনা ঘটে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় এলাকার মানুষেরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
আহত পাহারাদার আবদুল কুদ্দুস (৬০) বলেন, ‘বুধবার রাত ১০টার দিকে নলকূপের ঘর থেকে বের হওয়ার পর পাঁচ-ছয়জনের একটি দল আমাকে ধরে ফেলে। চুরি করতে বাধা দেওয়ায় তারা আমাকে মারধর করে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ঘরের ভেতর ফেলে রাখে। পরে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে তিনটি ট্রান্সফরমার খুলে নিচে নামায়। সেখান থেকে তামার তার খুলে নিয়ে যায়। আমাকে যেভাবে বেঁধেছিল, মনে হয়েছিল, হয়তো মেরে ফেলবে। ভয়ে দম বন্ধ হয়ে আসছিল। তারা চলে গেলে আমি গোঙাতে থাকি। শব্দ শুনে লোকজন এসে উদ্ধার করে।’
গ্রামের বাসিন্দারা জানান, দেড় মাস আগে নলকূপঘরের শিকলে একটি চিরকুট রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। চিরকুটে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পরে মুঠোফোনে দাবি করা টাকা চাওয়া হয়। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে নলকূপের মালিকপক্ষ আক্কেলপুর থানার ওসি ও ইউএনও বরাবর লিখিত আবেদন করে।
ওই গভীর নলকূপ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুস সালাম বলেন, ‘চকরঘুনাথ গ্রামের ৬৮ জন কৃষক মিলে এই গভীর নলকূপ স্থাপন করেছি। চিরকুট রেখে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। বিষয়টি প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানিয়েছিলাম। কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় শেষ পর্যন্ত এমন ঘটনা ঘটল।’
গ্রামের বাসিন্দা ও সোনামুখী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। আমরা সবাই আতঙ্কে আছি। দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। দেড় মাস আগে চাঁদা দাবির ঘটনায় একটি মুঠোফোন নম্বরের সূত্র পাওয়া গিয়েছিল, যা নওগাঁর মান্দা উপজেলার এক রিকশাচালক ব্যবহার করেন।
আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা জান্নাত বলেন, নলকূপ মালিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।